Menu Close
know about deepfake technology
বর্তমান তথ‌্য ও প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে তত আমাদের জীবন যাপন আধুনিক হচ্ছে। তবে এই আধুনিক যুগে প্রযুক্তির এমন কিছু আবিষ্কার রয়েছে যা বর্তমান সময়ের মানুষের জন‌্য খুব ক্ষতিকর। এই প্রযুক্তি ব‌্যবহারের মাধ‌্যমে যে কেউ অন‌্য কারো অজান্তেই তাঁর খুব ক্ষতি করতে পারে। বর্তমান সময়ে আমরা কমবেশি সকলেই বিভিন্ন ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ‌্যম ব‌্যবহার করে থাকি, তাঁর মধ‌্যে উল্লেখযোগ‌্য হলঃ ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম ইত‌্যাদি। তো এই সকল ওয়েবসাইট গুলোতে আমরা আমাদের বিভিন্ন ধরনের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে থাকি। সেক্ষেত্রে বলা যায় আমাদের প্রাইভেসি অনেকটা সেই সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ‌্যমগুলোর অধীনে থাকে।
 
তো যে কেউ চাইলে আমাদের ছবিগুলো ডাউনলোড করে সে ছবিগুলো ব‌্যবহার করে অনেকভাবে এডিটিং করে বিভিন্ন ধরনের ভূয়া খবরও ছড়াতে পারে। যেগুলো হয়তো আমাদের অনেকের জন‌্য খুব বিব্রতকর। সেক্ষেত্রে যাচাই করার পর এই খবরের সত‌্যতা পাওয়া যায়। কিন্তু এখন যে প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করব তা ভূয়া খবর থেকে ও ভয়ংকর। কারণ, বর্তমান সময়ে আমরা কমবেশি সকলেই ফেসবুক এবং ইউটিউবে ভিডিও দেখে থাকি। আর অনলাইনে খবর থেকে ভিডিওটাকেই আমরা কমবেশি সবাই বর্তমান সময়ে বেশি বিশ্বাস করি। 
 
আর প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে ছবির মতো এখন আমরা ভিডিও এডিট করতে পারি। ছবিতে এডিটিংয়ের ক্ষেত্রে যেমন আমরা একজনের যায়গায় অপর একজনকে বসিয়ে দিতে পারি। ঠিক তেমনি ভিডিও এডিটিংয়ের ক্ষেত্রেও বর্তমানে ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ‌্যমে একজনের যায়গায় অপর একজনকে বসিয়ে দেওয়া যায়। এখন আমরা ডিপফেক প্রযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।
ডিপফেক প্রযুক্তি কি?
ডিপফেক প্রযুক্তি বলতে সাধারণত বুঝা যায় যে, কোন একটা ছবি, অডিও, এবং ভিডিও যেটাই বলা হোক না কেন সেগুলোকে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব‌্যবহার করে, এমনভাবে এডিটিং করা যেটা দেখে যে কেউ বলবে এটা বাস্তব। বর্তমান সময়ে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তাঁর ব‌্যবহার করে বর্তমানে অনেক কঠিন ও সময় সাপেক্ষ কাজগুলোও সহজ এবং অনেক কম সময়ের মধ‌্যে শেষ করা সম্ভব হয়েছে। তবে আমরা জানি যে কমবেশি সকল কিছুরই ভাল খারাপ উভয় দিক রয়েছে।
ঠিক তেমন বৈশিষ্ট‌্যটি এই ডিপফেক প্রযুক্তির মধ‌্যে রয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ‌্যমে যে কেউ চাইলেই কারো অডিও ভয়েস এবং ভিডিও এমন ভাবে এডিটিং করতে পারে, যেটা দেখতে যে কেউ নির্ণয় করতে পারবে না যে এটা কি সেই ব‌্যক্তি না অন‌্য কারো। মূলত কোন ডিজিটাল কন্টেন্ট কে গভীর এবং নিখুতভাবে এডিটিং করাই হল ডিপফেক প্রযুক্তি।
ডিপফেক প্রযুক্তি কেন ব‌্যবহার করা হয় এবং তাঁর অসুবিধাসমূহ?
ডিপফেক প্রযুক্তি মূলত যে কোন অসৎ উদ্দেশ‌্য সাধন করার জন‌্য ব‌্যবহার করা হয়। যারা এই ডিপফেক প্রযুক্তি সম্পর্কে ভাল জানে তারা তাদের যে কোন কাজে নিজের স্বার্থের জন‌্য যে কারো ক্ষতি করতে পারে। ডিপফেক প্রযুক্তির অসুবিধাসমূহের মধ‌্যে মূল যে অসুবিধা অর্থ‌্যাৎ সমস‌্যাটি হল এটির মাধ‌্যমে বিভিন্ন ধরনের গুজব সহজে ছড়ানো যায়। আর যারা এই প্রযুক্তি সম্পর্কে তেমন কিছু জানে না, তারা খুব সহজেই বিশ্বাস করে ফেলে এই ডিপফেক প্রযুক্তির ব‌্যবহার করে বানানো যে কোন ভিডিও। পরবর্তীতে তাদেরকে এই ভিডিওর সত‌্যতা প্রমাণ দিলেও তাড়া সহজে বিশ্বাস করতে চায় না।
এই প্রযুক্তি যে কতটা ক্ষতিকর তা একজন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা আছে তেমন ব‌্যক্তিরাই বলতে পারবে। আর এসব ডিপফেক প্রযুক্তির অপব‌্যবহারের শিকার হন বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব‌্যক্তিরা। যেমনঃ নায়ক-নায়িকা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব‌্যক্তিরা এই প্রযুক্তির অপব‌্যবহারের স্বীকার হন। এই প্রযুক্তির মাধ‌্যমে তাদের নিয়ে এমন এমন আপত্তিকর এবং বিব্রতকর ভিডিও ক্লিপ বানানো হয়, যেগুলো তারা জীবনেও কোন দিন কোন সময় করেন নি।
তাই নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের উচিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ‌্যমগুলোতে নিজের ব‌্যক্তিগত ছবি শেয়ারের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া।
আশা করি পোষ্টটি পড়ে কিছুটা হলেও উপকৃত হয়েছেন। নতুন পোষ্ট পেতে অবশ‌্যই আমাদের ওয়েবসাইটিকে ফলো করে রাখবেন। পোষ্টটি সম্পর্কে কমেন্টে আপনার মূল‌্যবান মতামত জানাতে ভুলবেন না। পোষ্টটি পড়ার জন‌্য আপনাকে ধন‌্যবাদ।

অন্যান্য পোস্টসমূহঃ

error: Content is protected !!