Menu Close

ডিজিটাল মার্কেটিং (Digital Marketing):


Digital Marketing, ডিজিটাল মার্কেটিংইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে যে কোন পণ্যসামগ্রীর প্রচার বা বিপণন করার প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল মার্কেটিং বলে। অর্থাৎ ডিজিটাল মার্কেটিং একধরনের বিপণন প্রক্রিয়া যা টেলিভিশন, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, অনলাইন মিডিয়া ইত্যাদির ব্যবহার করে করা হয়ে থাকে। ফেসবুকে বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়া, বা এস.এম.এস এর মাধ্যমে কোন পণ্যের প্রচার করা বা  ডিজিটাল বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা সবই ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্তর্ভুক্ত। ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমান বিজ্ঞাপন দুনিয়ার অনেক বড় স্থান দখল করে রেখেছে।

প্রকারভেদঃ


ডিজিটাল মার্কেটিং দুই প্রকারঃ

১। অনলাইন মার্কেটিং

২। অফলাইন মার্কেটিং

অনলাইন মার্কেটিংঃ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্যের প্রচার করার প্রক্রিয়াকে অনলাইন মার্কেটিং বলে। এটি অত্যান্ত লাভজনক। স্বল্প খরচে এবং স্বল্প সময়ে পণ্যের অধিক প্রচার করা সম্ভব হয় এই পদ্ধতির মাধ্যমে। ফেসবুক মার্কেটিং, ইউটিউব মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং অনলাইন ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং এর উদাহরণ।

অফলাইন মার্কেটিংঃ ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কিন্তু ইন্টারনেট ব্যবহার না করে যে মার্কেটিং করা হয় তাই অফলাইন মার্কেটিং। রেডিও-টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন, এস.এম.এস এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন বা  বৈদ্যুতিক বিলবোর্ড এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন এ সবই অফলাইন ডিজিটাল মার্কেটিং এর উদাহরণ

ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুবিধাঃ


ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবস্থা যে কোন পণ্যের প্রচার এবং প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। পণ্যের মান যত ভালো হক না কেন তা যদি মানুষের কাছে পরিচিত না করানো যায় মানুষ তা ক্রয় করবে না। তাই মার্কেটে কোন পণ্য আসলে মার্কেটিং করা এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকে। আর মার্কেটিং দুনিয়ার সবচেয়ে বড় অংশ দখল করে আছে ডিজিটাল মার্কেটিং।  অনলাইন বা অফলাইন ডিজিটাল মার্কেটিং করে আপনি যত সহজে আপনার পণ্যসামগ্রী মানুষের কাছে পরিচিত করাতে পারবেন তা আর কোন ভাবে করা সম্ভব নয়। এছাড়া ডিজিটাল মার্কেটিং এ খরচ কম এবং ঝামেলা কম। তাই যে কোন পণ্য থেকে কম সময়ে বেশী মুনাফা আয় করতে হলে ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিকল্প নেই। নিচে ডিজিটাল মার্কেটিং এর কিছু সুবিধা উল্লেখ করা হলঃ

১। ডিজিটাল মার্কেটিং এ খরচ অনেক কম তাই বিজ্ঞাপনের অর্থ সাশ্রয় হয়।

২। প্রচলিত মার্কেটিং এর চেয়ে অনেক কম ব্যয় অনেক বেশি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ থাকে।

৩। যে কোন লোকাল পণ্য গ্লোবাল মার্কেটপ্লেসে পৌঁছাতে পারে।

৪। গ্রাহকদের পছন্দ অপছন্দ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা তৈরি হয়। ফলে গ্রাহকদের আরও ভালো সেবা দেওয়া যায়।

৫। অনেক ক্ষেত্রে পণ্য সম্পর্কে গ্রাহকদের মতামত জানা যায় এবং সকল প্রশ্নের উত্তর সাথে সাথে দেওয়া যায়। এতে পণ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে।

ডিজিটাল মার্কেটিং যেভাবে শুরু করবেনঃ


ডিজিটাল মার্কেটিং ফ্রিল্যান্সিং জগতের এক পরিচিত নাম। যে কোন ফ্রিল্যান্সার বা প্রতিষ্ঠানের জন্য সঠিকভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করার অনেক প্লাটফর্ম আছে। নিচে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুপরিচিত কিছু প্লাটফর্ম তুলে ধরা হলঃ

১। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

২। ইমেইল মার্কেটিং

৩। মোবাইল মার্কেটিং (APP, SMS এবং MMS)

৪। গেমস

৫। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

৬। সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং (SM)

৭। সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (SEO)

৮। কনটেন্ট মার্কেটিং

৯। ডিজিটাল ডিসপ্লে বিজ্ঞাপন

১০। রেডিও-টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন

১১। ইউটিউব মার্কেটিং

১২। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন

নিচে প্রথম ৫টি মার্কেটিং সম্পর্কে বর্ণনা করা হল।

১। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংঃ

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যতম জনপ্রিয় একটি নাম। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব বেশি অ্যাকটিভ থাকে তাই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং হয়ে উঠেছে ডিজিটাল মার্কেটিং জগতের অন্যতম একটি প্লাটফর্ম। যেমন- ফেসবুকে আপনি একটি গ্রুপ বা পেইজ খুলে নিতে পারেন। এবং সেখানে আপনি আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করে খুব সহজে আপনার বিক্রয় বৃদ্ধি করতে পারেন। এছাড়া নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার বিনিময়ে পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে ফেসবুকে। ফেসবুক মার্কেটিং সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর একটি বড় স্থান দখল করে আছে এছাড়াও ইন্সটাগ্রাম ও টুইটার সহ প্রায় সকল সোশ্যাল মিডিয়াতেই মার্কেটিং করা যায়।

২। ইমেইল মার্কেটিংঃ

ইমেইল ব্যবহার করে পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করার পদ্ধতিকে বলা হয় ইমেইল মার্কেটিং। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার করে থাকে। এ জন্য আপনাকে যা করতে হবে তা হল আপনাকে গ্রাহকদের ইমেল অ্যাড্রেস জোগার করতে হবে। তাদের বয়স, পছন্দ-অপছন্দ অনুযায়ী সাজিয়ে রাখতে হবে এবং আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন তাদের কাছে পৌছে দিতে হবে ইমেইলের মাধ্যমে।

৩। মোবাইল মার্কেটিংঃ

আমরা সবসময়ই মোবাইল অপরেটরের সার্ভিস সেন্টার থেকে বিভিন্ন অফারের এস.এম.এস পেয়ে থাকি। এটা কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এস.এম.এস মার্কেটিং এর একটি অংশ। তারা তাদের অফার তাদের গ্রাহকদের জানানোর মাধ্যমে তাদের সেবা্র বিক্রি বাড়িয়ে থাকে। মোবাইল মার্কেটিং (এস.এম.এস, এম.এম.এস) এর ভালো দিক হচ্ছে যখন কল সেন্টার থেকে কোন এস.এম.এস আসে মানুষ তা খুব একটা গুরুত্ব না দিলেও যখন কোন মোবাইল নাম্বর থেকে এস.এম.এস আসে মানুষ তা খুব গুরুত্ব সহকারে দেখে। ফলে মোবাইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে খুব সহজে নতুন একটি পণ্যকে সাধারন মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলা যায়। যারা মোবাইল মার্কেটিং শুরু করতে চাচ্ছেন তাদের প্রথমে যা করতে হবে তা হল একটি এলাকা বা শহরের প্রায় সকল মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে তাকে একটি ডাটাবেজে সাজিয়ে রাখতে হবে। এছাড়া অ্যাপসে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেও আপনার পণ্যের পরিচিতি বাড়াতে পারেন। এটাও মোবাইল মার্কেটিং এর একটি অংশ।

৪। গেমসঃ

বর্তমানে বাচ্চারা মোবাইল ও কম্পিউটারে গেমস খেলে অনেক টাইম কাটিয়ে দেয়। আর তাই গেমস এর মাধ্যমে মার্কেটিং করা বর্তমানে একটি জনপ্রিয় মার্কেটিং পলেছি হয়ে উঠেছে। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন প্রতিটা গেমসে শুরুতে বা মাঝে বিজ্ঞাপন প্রচার করে থাকে। আর এই বিজ্ঞাপন এর বেশিরভাগ হয় বাচ্চাদের বিভিন্ন পণ্যের।

৫। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংঃ

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বর্তমান মার্কেটিং জগতে খুবই জনপ্রিয় একটি নাম। কারন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান করেনা। বরং সাধারন মানুষই পণ্যের প্রচার করে থাকে। যখন কেউ কোন পণ্যের রেফারেন্স লিংক শেয়ার করে তার সোশ্যাল মিডিয়ায় বা তার ওয়েবসাইটে তখন ঐ পণ্য বিক্রির উপর কিছু টাকা কমিশন সে পেয়ে থাকে। আর এই কারনে বর্তমানে ওয়েবসাইট মালিকদের কাছে এবং ফ্রিল্যান্সারদের কাছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটি সুপরিচিত নাম হয়ে উঠেছে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে হলে আপনার প্রথমে যা লাগবে তা হল আপনার একটি ওয়েবসাইট বা বড় কোন পেইজ বা গ্রুপ লাগবে যেখানে আপনি আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংকটি শেয়ার করতে পারবেন। বর্তমানে প্রায় সকল ই-কমার্স ওয়েবসাইট  অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সুবিধা দিয়ে থাকে। সেখান থেকে আপনি আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংকটি পেয়ে যাবেন।

তথ্যসূত্রঃ


১। Career Source

অন্যান্য পোস্টসমূহঃ

error: Content is protected !!