Menu Close

ব্যাকলিংক (Backlink):


কোন ওয়েবসাইটে অন্য কোন ওয়েবসাইটের লিংক (URL) যুক্ত করাকে ব্যাকলিংক বলে। এক্ষেত্রে যে ওয়েবসাইটে লিংক যুক্ত হয়েছে সে সাইটটি ব্যাকলিংক দিয়েছে এবং যে ওয়েবসাইটটির লিংক যুক্ত হয়েছে সে সাইটটি একটি ব্যাকলিংক পেয়েছে। অর্থাৎ যদি আপনার ওয়েবসাইটে A-ওয়েবসাইটের একটি লিংক যুক্ত করা হয় তাহলে A-ওয়েবসাইটি আপনার ওয়েবসাইট থেকে একটি ব্যাকলিংক পাবে। ব্যাকলিংককে “ইনবাউন্ড লিংক” বা “ইনকামিং লিংক” ও বলা হয়। ব্যাকলিংক অফ পেজ এসইও (Off page SEO) এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 

ব্যাকলিংক এর গুরুত্বঃ


সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করার জন্য যে সকল বিষয়গুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তার মধ্যে ব্যাকলিংক অন্যতম। কোন ওয়েবসাইটটি কতটা বিশ্বাসযোগ্য তা সার্চ ইঞ্জিনগুলি ব্যাকলিংক থেকে বুঝতে পারে। যখন বিভিন্ন সাইট থেকে কোন ওয়েবসাইট ব্যাকলিংক পেয়ে থাকে তখন সার্চ ইঞ্জিনগুলি অনুমান করতে পারে যে সাইটটিতে থাকা তথ্য কতটা মূল্যবান। ফলে সাইটটির তথ্য সার্চ ইঞ্জিনগুলো আগে প্রকাশ করে। এছাড়া  ডোমেইন অথরিটি (DA), পেইজ অথরিটি (PA), ডোমেইন রেটিং(DR) এবং স্পার্ম স্কোর (SS) ইত্যাদির উপর ব্যাকলিংক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে।

 

ব্যাকলিংকের প্রকারভেদঃ


ব্যাকলিংক ২ প্রকার হয়ে থাকে। যথাঃ

  • নো ফলো (No Follow) ব্যাকলিংক
  • ডু ফলো (Do Follow) ব্যাকলিংক

 

নো ফলো (No Follow) ব্যাকলিংকঃ


যে সকল ব্যাকলিংক এ HTML rel=”nofollow” থাকে তাকে নো ফলো ব্যাকলিংক বলে। নো ফলো ব্যাকলিংককে ভিজিটর ভিজিট করতে পারলেও সার্চ ইঞ্জিন ভিজিট করতে পারে না। ফলে আপনি যদি চান আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করার সময় সার্চ ইঞ্জিন কোন নির্দিষ্ট লিংককে ভিজিট না করে চলে যাক তবে লিংকটি নো ফলো রাখতে পারেন। সাধারণত নো ফলো ব্যাকলিংক দেখতে এমনঃ <a href=”https://domain.com” rel=”nofollow”>Site Title</a>

 

ডু ফলো (Do Follow) ব্যাকলিংকঃ


যে সকল ব্যাকলিংক এ HTML rel=”nofollow” থাকে না তাকে ডু ফলো ব্যাকলিংক বলে। ডু ফলো ব্যাকলিংককে ভিজিটর এবং সার্চ ইঞ্জিন উভয় ভিজিট করতে পারে। ফলে ডু ফলো ব্যাকলিংককে সার্চ ইঞ্জিন বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আপনি যদি অন্য একটি ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করাতে চান তাহলে তাকে ডু ফলো ব্যাকলিংক দেওয়া ভাল। সাধারণত ডু ফলো ব্যাকলিংক দেখতে এমনঃ <a href=”https://domain.com”>Site Title</a>

 

ব্যাকলিংক তৈরি করার নিয়মঃ


নতুন ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে অনেকেই ব্যাকলিংক তৈরির বিষয়টি ভালো করে না জেনে নিম্ন মানের ওয়েবসাইটে ব্যাকলিংক তৈরি করে, অনেকে আবার অল্প দামে ব্যাকলিংক ক্রয় করে। এভাবে নিম্ন মানের ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক নেয়ার ফলে তাদের স্পার্ম স্কোর বেড়ে যায় এবং আর্টিকেল র‍্যাংক নিম্নমুখী হয়। তাই ব্যাকলিংক নেয়ার ক্ষেত্রে সাবধাণতা অবলম্বন করতে হবে। নিচে ব্যাকলিংক নেওয়ার ৫ টি উপায় বর্ণনা করা হল-

১। ভালো মানের কনটেন্টঃ আপনার সাইটে ভালো মানের কনটেন্ট থাকলে ব্যাকলিংক পাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। ধরুন আপনার একটি ব্লগ সাইট আছে আর আপনার লেখার কোয়ালিটি খুব ভালো তাহলে দেখবেন অনেক ওয়েবসাইট আপনার সাইটের ব্যাকলিংক তৈরি করবে। তাই ব্যাকলিংক তৈরির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ভালো মানের কনটেন্ট।

২। গেস্ট ব্লগিংঃ নতুন ব্লগারদের জন্য ব্যাকলিংক পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হল গেস্ট ব্লগিং। যে সকল ওয়েবসাইট গেস্ট ব্লগিং গ্রহণ করে সেখানে ব্লগ লেখার মাধ্যমে আপনি তাদের থেকে ব্যাকলিংক নিতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে আপনি যে ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক নেবেন তাদের ডোমেইন অথরিটি এবং স্পার্ম স্কোর কেমন তা আগে চেক করে নেবেন।

৩। ইনফোগ্রাফিকসঃ অনেকেই মনে করেন ইনফোগ্রাফিকস লিংক তৈরি করার একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। কিন্তু  ইনফোগ্রাফিকসের জনপ্রিয়তা এবং এর মাধ্যমে লিংক তৈরির সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে। এর পরও আমি মনে করি ইনফোগ্রাফিকস তৈরি করেন এবং এটির অনেক বেশি মার্কেটিং করেন। কারন আপনার ইনফোগ্রাফিকসটি একবার জনপ্রিয় হয়ে গেলে অন্যরা এটি শেয়ার করবে ফলে আপনি অনেক বেশি ব্যাকলিংক পাবেন। তবে অবশ্যই আপনাকে মান সম্পূর্ণ ইনফোগ্রাফিকস ডিজাইনিং করতে হবে এবং দরকারি তথ্য দিতে হবে।

৪। সোশ্যাল মিডিয়ায়ঃ শুধুমাত্র ভালো মানের কন্টেন্ট তৈরি করলেই হবে না। কন্টেন্ট মার্কেটিংও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর সোশ্যাল মিডিয়া হচ্ছে কন্টেন্ট মার্কেটিং এর সবচেয়ে ভালো জায়গা। আপনি আপনার ব্লগ বা পণ্যের যত বেশি মার্কেটিং করবেন আপনার ব্যাকলিংক পাওয়ার সম্ভাবনা ততো বাড়বে। আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় যে সব জায়গায় সক্রিয় আছেন সে সব স্থানে আপনার আর্টিকেলের লিংক দিন। খেয়াল রাখতে হবে যেন আপনার আর্টিকে্লের বিষয় এবং যেখানে লিংক দেবেন তার মধ্যে যোগসূত্র থাকে। যেমন, আপনি চাকরির খবর প্রকাশের গ্রুপে গিয়ে রেসিপি নিয়ে পোস্ট দিলে কোন লাভ হবেনা। তাই অবশ্যই ব্লগের সাথে যোগসূত্র আছে এমন স্থানেই আপনাকে শেয়ার করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আর্টিকেল লিংক প্রকাশ করার একটি খারাপ দিকও আছে আর তা হচ্ছে আপনার সাইটের অনেক নিম্নমানের ব্যাকলিংক তৈরি হবে। যা আপনার সাইটের স্পার্ম স্কোর বাড়িয়ে দেবে। আর এই কারনে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লিংক শেয়ার করাটাকে পছন্দ করেন না।

৫। আপনার নিজস্ব পরিচিতি/ব্র্যান্ডঃ নিজেস্ব পরিচিতি বা ব্র্যান্ড তৈরি করা সহজ কাজ নয়। এটি অনেক সময়ের বিষয়। কিন্তু আপনার যদি আগে থেকেই একটি ব্র্যান্ড থাকে বা আপনি যদি দির্ঘ্যদিন সময় দিয়ে একটি ব্র্যান্ড তৈরি করেন তাহলে আপনার আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না। আপনার পরিচিতি আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

 

সতর্কতাঃ


ভাল মানের ব্যাকলিংক ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করতে সাহায্য করে কিন্তু নিম্ন মানের ব্যাকলিংক ওয়েবসাইটের মান কমিয়ে দেয় এবং সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক না পাওয়ার জন্য কাজ করে। তাই সাবধানতার সাথে লিংক বিল্ডিং করতে হবে। বিশ্বাসযোগ্য, জনপ্রিয়, উচ্চ-কর্তৃপক্ষের সাইটগুলি থেকে ব্যাকলিংক তৈরি করলে সাধারণত উচ্চমানের ব্যাকলিংক পাওয়া যায়। এছাড়া আপনি যে ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক নেবেন সে ওয়েবসাইটের ডোমেইন অথরিটি (DA), পেইজ অথরিটি (PA) এবং স্পার্ম স্কোর (SS) চেক করে দেখতে পারেন। যদি ডোমেইন অথরিটি (৪০+) এবং স্পার্ম স্কোর (১০-) হয় তবে ওয়েবসাইটটি থেকে ব্যাকলিংক নিতে পারেন।

 

তথ্যসূত্রঃ


১। Moz

২। ntvbd

অন্যান্য পোস্টসমূহঃ

error: Content is protected !!