Menu Close

আজকের এই আধুনিক যুগে আমরা প্রায় সবাই-ই ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করি। যার মাধ্যমে আমরা ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যবহার করতে পারি। আমাদের প্রয়োজনে আমরা ভিপিএন ইউজ করে থাকি। বর্তমান সময়ে VPN সম্পর্কে জানে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু তারপরেও অনেকে ভিপিএন কি এবং কিভাবে কাজ করে তা সম্পর্কে জানেনা।‌ বর্তমানে জোক হল ইন্টারনেটের যুগ,ইন্টারনেট ব্যবহার করে আমরা বিভিন্ন কাজকর্ম ইন ,অনলাইন পেমেন্ট, পার্সোনাল ইনফরমেশন বন্ধুদের সাথে শেয়ার ইত্যাদি আমরা প্রতিদিনই করে থাকি। কিন্তু এই আমাদের পার্সোনাল ইনফরমেশন যেকোনো সময় যেকোনো হ্যাকাররা হ্যাক করতে পারে। যার জন্য ভিপিএন এর উৎপত্তি। বর্তমানের যতদিন এগোচ্ছে ভিপিএন এর ব্যবহার ততই জনপ্রিয় হয়ে পড়ছে। এই পোস্টে আমরা VPN কি এবং কিভাবে কাজ করে আর এটা ব্যবহারে সুবিধা অসুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

ভিপিএন কিঃ

Virtual private network  এর সংক্ষিপ্ত রূপকে VPN বলে। ভিপিএন মূলত কোন এক নেটওয়ার্ক ট্রাফিককে অন্য কোন নেটওয়ার্ক ট্রাফিক এর সাথে যুক্ত করে। ভিপিএন মূলত একটি ট্রাফিক ট্রানেল যার মধ্য দিয়ে তথ্য নিরাপদ ভাবে চলাচল করে। এই ট্রানেল বা সুরঙ্গ এর বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই এটি কাল্পনিকভাবে। এটি মূলত তথ্য প্রাইভেট ভাবে চলাচল কে বুঝানো হয়। ইন্টারনেট একটি উন্মুক্ত তথ্য চলাচলের প্ল্যাটফর্ম। এটি প্লাটফর্মে বিশ্বের সবাই যুক্ত হতে পারে। আর আমাদের মধ্যে অনেকেই অনেক তথ্য প্রকাশ করে নিজের পরিচয় গোপন রেখে । আর এটি ইন্টারনেটে সরাসরি প্রকাশ করলে তথ্য ফাঁস এর একটি ঝুঁকি থাকে। আর ভিপিএন এর মাধ্যমে প্রাইভেট নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে তথ্য আদান-প্রদান করা হয়।

 

এছাড়াও ভিপিএন এর মাধ্যমে আমরা আমাদের ইন্টারনেটের এর গতি বাড়ানোর জন্য , বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশ এর অনুমতির জন্য , ফ্রী ইন্টারনেটের জন্য ব্যবহার করে থাকি । তবে অনেক মানুষই ভিপিএন কে ফ্রী ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যম হিসেবে চিনে থাকেন । এই কথাটি আসলে পুরোপুরি সঠিক নয় । ভিপিএন খোলো একটি প্রাইভেট নেটওয়ার্কিং পদ্ধতি । যার মাধ্যমে আমরা যেকোন দেশ থেকে অন্য যেকোনো দেশের সার্ভার ইউজ করতে পারি । ইন্টারনেটে বিভিন্ন ওয়েবসাইট নির্দিষ্ট কিছু দেশে ব্লক করা থাকে । আর ভিপিএন এর মাধ্যমে আমরা ঐ সকল ব্লক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ব্যবহার করতে পারি । উদাহরণস্বরূপ বলা যায় জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত বিনোদন প্ল্যাটফর্ম ” spotify” আমরা বাংলাদেশ থেকে প্রবেশ করতে পারি না । কিন্তু আমরা ভিপিএন ব্যবহার করে আমরা এই প্লাটফর্মে প্রবেশ করতে পারি ।

 

ভিপিএন এর মধ্যেও কিছু শ্রেণীবিভাগ আছে যেমন :

  • PPTP VPN

  • Site to Site VPN

  • L2TP VPN

  • Remote access VPN

  • IPsec VPN

  • SSL VPN

  • MPLS VPN

  • Hybrid VPN

 

এছাড়া আরো ইত্যাদি রকমের ভিপিএন পাওয়া যায় । ভিপিএন এর জন্য প্রাইভেট নেটওয়ার্কে একটি ভিপিএন সার্ভার থাকে । যখন কোনো ব্যবহারকারী ভিপিএন ব্যবহার করতে চাইবে তখন তার ডিভাইসের নেটওয়ার্ক সংযোগ অন করতে । তারপরে ভিপিএন সার্ভার লগইন করে কানেক্ট করতে হয় । এর জন্য ব্যবহারকারী যত দুর দুরান্তে থাকুক না কেন পার্সোনাল নেটওয়ার্ক এর সমস্ত সুবিধায় তিনি ভোগ করতে পারে । আপনি যখন ভিপিএন ব্যবহার করেন তখন আপনার ডিভাইস এর আইপি অ্যাড্রেস অন্য কোন দেশের আইপি অ্যাড্রেস এর সাথে গুপ্ত সুড়ঙ্গের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করে । তখন ইন্টারনেট সার্ভিস আপনার এই প্রাইভেট গুপ্ত সুড়ঙ্গে প্রবেশ করতে পারে না ফলে আপনার লোকেশন ট্র্যাক করতে পারে না ।

 

ভিপিএন ব্যবহার করার সুবিধাঃ

  • ভিপিএন ব্যবহার করলে আপনি আপনার সমস্ত তথ্য নিরাপত্তা আদান-প্রদান করতে পারবেন

  • আপনার লোকেশন কেউ চিহ্নিত করতে পারবে না । যেমন ধরুন আপনি বাংলাদেশ থেকে আমেরিকার একটি ভিপিএন ইউজ করছেন তখন সকলের আপনার অবস্থান দেখবে আমেরিকাতে ।

  • আপনি ভিপিএন ব্যবহার করা সময়কালীন প্রাইভেট নেটওয়ার্ক এর মধ্যে থাকেন যার জন্য হ্যাকাররা আপনাকে হ্যাক করতে পারবে না ।

  • নেটওয়ার্কের ফুল স্পিড পাবেন

  • আপনার দেশের জন্য ব্লক করা সাইট ভিপিএন ব্যবহার করে সেটা ব্যবহার করতে পারবেন । যেমন ধরুন বাংলাদেশের জ্যোতি ইউটিউব বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে আপনি ভিপিএন এর মাধ্যমে ইউটিউব চালাতে পারবেন।

  • ভিপিএন ইউজ করে আপনি আপনার পরিচয় গোপন রাখতে পারবেন ।

  • ভিপিএন ব্যবহার করে আপনি নিজেই পৃথিবীর যে কোন দেশ সিলেক্ট করে সেই দেশের আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করতে পারবেন ।

  • আপনার ডিভাইসের নেটওয়ার্কের আইপি অ্যাড্রেস পরিবর্তন করে অন্য কোন দেশের আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করতে পারবেন এবং সকল সুবিধা ভোগ করতে পারবেন ।

 

উপরের তথ্য পড়ে অনেকেই ভেবেছেন ভিপিএন ব্যবহার করে অনেক অপরাধমূলক কাজ কর্ম করবেন । কিন্তু কেউ আপনার আসল ঠিকানা জানতে পারবে না । আসলে এটা ঠিক নয় । সমাজের নিরাপত্তা প্রদানকারী যেমন পুলিশ ভিপিএন কোম্পানির কাছ থেকে আপনার সত্যি কারের ঠিকানা বের করতে পারবে । ভিপিএন ব্যবহার করে শুধুমাত্র আপনি আপনার তথ্য প্রাইভেট ভাবে আদান প্রদান করবেন তখন হ্যাকাররা বা প্রাইভেসি চোরেরা আপনার তথ্য চুরি করতে পারবে না । এর জন্যই মূলত ভিপিএন এর উৎপত্তি ।

 

কখন ভিপিএন ব্যবহার করবেনঃ

তাহলে কখন আপনি ভিপিএন ব্যবহার করবে আর কখন করবেন না । ধরুন আপনি যখন আপনার বাসায় নিজস্ব ওয়াইফাই থেকে ইন্টারনেট চালাচ্ছেন তখন ভিপিএন ব্যবহার করার কোনো প্রয়োজন নেই কারণ আপনার ওয়াইফাই টি তখন নিরাপদ আছে । আর যখন আপনি ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করবেন যেমন বাস, লঞ্চ,শপিং মল এর ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করবেন তখন তাতে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে না তখন সহজেই হ্যাকাররা আপনার তথ্য হ্যাক এবং আপনার সিস্টেম হ্যাক করতে পারে । তখন যদি আপনি ভিপিএন ব্যবহার করেন তাহলে হ্যাকাররা আপনার তথ্য হ্যাক এবং ডিভাইস হ্যাক করতে পারবে না । পাবলিক নেটওয়ার্ক বা ফ্রি ইন্টারনেট কখনোই নিরাপদ নয় তাই যখন পাবলিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবেন তখন ভিপিএন ইউজ করবেন ।

 

কম্পিউটার এবং মোবাইলের ভিপিএন ব্যবহার করার নিয়মঃ

ভিপিএন ব্যবহার করার তেমন কোনো কঠিন কাজ নয় । সাধারণ অ্যাপ্লিকেশন এর মত আপনি আপনার মোবাইলের আপনার পছন্দ মত যে কোন ভিপিএন অ্যাপ ইন্সটল করবেন । কম্পিউটারের ঠিক সেইভাবে আপনি আপনার পছন্দ মত যে কোন ভিপিএন সফটওয়্যার ডাউনলোড করবেন । ডাউনলোড করার পর ভিপিএন অ্যাপ বা ভিপিএন সফটওয়্যার টি অন করে দিতে হবে । তারপর আপনার ইন্টারনেট কানেকশন কি চালু করবেন তারপর ভিপিএন নিজে নিজেই প্রাইভেট নেটওয়ার্ক স্থাপন করে নিবে । এবং আপনি নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন । কয়েকটি জনপ্রিয় প্রিমিয়াম ভিপিএন এর নাম হলো , স্যামসাং ম্যাক্স (ফ্রী) , এক্সপ্রেস ভিপিএন , টানেলবিয়ার ইত্যাদি ।

 

ভিপিএন ব্যবহার করা কতটা নিরাপদঃ

ভার্চুয়াল জগতে নিরাপত্তার’ ব্যাপারটি বোঝা বড়ই কঠিন । কোনোটিই পুরোপুরি নিরাপদ নয় । তবে বাজারের নামিদামি ভিপিএন কোম্পানির প্রতি অনেক মানুষ বিশ্বাস করেন । আর নিজের ভিপিএন হলে সেটা মোটামুটি ভালো । বাজারে অনেক ভিপিএন আছে যার মধ্যে স্বল্পসংখ্যক মধ্যে স্বল্পসংখ্যক ভিপিএন সঠিক । কিন্তু অনেক ভেবেই নিয়ে আছে যেগুলো নিরাপদ নয় । এরা আপনাকে ফ্রি অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলবে কিন্তু পরে আপনি এদের পিছনে শুধুই আপনার মোবাইল ডাটা খরচ করছেন কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না । তাই ভিপিএন ব্যবহার করার আগে এর মান যাচাই করে নেওয়া উচিত ।

 

ভিপিএন ব্যবহারের অসুবিধাঃ

ভিপিএন ব্যবহার করলে অনেক সুবিধা সহ কিছু অসুবিধাও আছে ।

  • ভিপিএন এর মাধ্যমে টরেন্ট ফাইল ডাউনলোড হবে না

  • এটি সম্পূর্ণ ইন্টারনেট নির্ভর

  • ভিপিএন এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানের এবং সবচেয়ে বিশ্বস্ত প্রেম প্রিমিয়াম ভিপিএন এর জন্য আপনাকে কিছু টাকা ফি দিতে হয় ।

  • ফ্রি ভিপিএন ব্যবহারে ইন্টারনেট স্পিড কম পাওয়া যায় ।

জনপ্রিয় কিছু ফ্রি ভিপিএন কম্পিউটারে ব্যবহারের জন্য ।

 

ইন্টারনেট জগতে কম্পিউটারের ব্যবহারের জন্য অনেক ফ্রি ভিপিএন পাওয়া যায় যার মধ্যে কিছু জনপ্রিয় ভিপিএন এর নাম হলো ।

  • WindScribe

  • Tunnelbear

  • Speedify

 

জনপ্রিয় ফ্রী ভিপিএন এন্ড্রয়েড মোবাইলে ব্যবহার করার জন্য

 

  • Hotspotshield

  • Turbo VPN

ইত্যাদি ।

 

তবে আমরা যখন ভিপিএন ব্যবহার করব তখন সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে ভিপিএন ব্যবহার করা উচিত।

অন্যান্য পোস্টসমূহঃ

error: Content is protected !!