Menu Close

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore):


বাংলা সাহিত্যে এক অসাধারণ প্রতিভাবান কবির নাম বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । তার হাতের জাদুতে আজ বাংলা সাহিত্য বিশ্বসাহিত্য দরবারে প্রতিষ্ঠিত । শুধু বাংলা সাহিত্যে তিনি শ্রেষ্ঠ নয়  বিশ্বের সকল শ্রেষ্ঠ কবিদের মধ্যে তিনি অন্যতম । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর লেখার মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করে তুলেছে আজ ।

রবীন্দ্রনাথের সাথে আইনস্টাইন
Rabindranath Tagore with Einstein

 

জন্ম।                                                       ১৮৬১ সালের ৭ ই মে

                                                               (বাংলা ১২৬৮ সালের ২৫ শে বৈশাখ)

                                                               জোড়াসাঁকো , কলকাতা, ভারত

মৃত্যু।                                                        ১৯৪১ সালেস ৭ ই আগস্ট

                                                               (বাংলা ১৩৪৮ সনের ২২ শে শ্রাবণ)

পুরস্কার।                                                 নোবেল পুরস্কার (১৯১৩)

নোবেল পুরস্কার পাওয়ার কারণ              ” গীতাঞ্জলি ” কাব্যগ্রন্থ

জাতীয়তা।                                             ব্রিটিশ ভারতীয়

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালে ৭ ই মেয়ে কলকাতার জোড়াসাঁকোর  ঠাকুর পরিবারে জন্ম নেয় । তার বাবার নাম মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর । তার মায়ের নাম প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর । এই ঠাকুর পরিবারে যারা যারা জন্মগ্রহণ করেছেন তারা সবাই জ্ঞানী-গুণী । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছোটবেলা থেকেই খুব জ্ঞানী ছিলেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সে পরিবারের সবাই জ্ঞানীগুণী এবং বিখ্যাত মানুষ ছিলেন । সাহিত্য পত্রিকা এবং নাট্য অনুষ্ঠানের পরিবেশে তিনি প্রতিফলিত হতে থাকেন ।  তাদের সঙ্গে থাকতে থাকতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বাংলা সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়েন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর পিতার চৌদ্দটি সন্তানের মধ্যে কনিষ্ঠতম ছিলেন । তার ডাকনাম ছিল “রবি” । ছোটবেলায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জোড়াসাঁকোর তাদের বাগানবাড়িতে তিনি ঘুরতে এবং থাকতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন । তিনি ওখানের প্রকৃতির সঙ্গে থাকতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন ।

 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় ভাইয়ের নাম ছিল দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর । তিনি একজন বিখ্যাত দার্শনিক এবং জনপ্রিয় নামকরা কবি ছিলেন ।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেজ দাদার নাম ছিলেন সতেন্দ্রনাথ ঠাকুর । তিনি ছিলেন ইন্ডিয়ার প্রথম “ইন্ডিয়া সিভিল সার্ভিসের ” প্রথম ভারতীয় সদস্য । তারা রাগ দাদার নাম হল জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর । তিনি ছিলেন বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী এবং নাট্যকার । তার দিদির নাম ছিলো । স্বর্ণকুমারী দেবী । তিনি সেই যুগের বিশ্ব বিখ্যাত ঔপন্যাসিক । ছোট্ট রবির উপর সকলের প্রভাব, নজর এবং ভালোবাসা ছিল অপরিসীম । তারেক বৌদি ছিলেন তাঁর সবচেয়ে ভালো বন্ধু । কাদম্বরী দেবী । তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুকে লিখতে উৎসাহ দিতেন এবং ভরসা জোগাতে । কিন্তু ১৮৮৪ সালে তাঁর এই বন্ধু হঠাৎ করে আত্মহত্যা করে । তার আত্মহত্যার কারণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুখে বিভোর হয়ে থাকে বহু বছর । এমনকি তার লেখার মধ্যেও তার বন্ধুর মৃত্যুর ছাপ রয়েছে এখনো ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম দশ বছর বয়সে তার পিতার সঙ্গে থাকার মিশবার এবং কথা বলার মত সময় পেয়েছিলেন । তার বাবা সেই সময়ে বিভিন্ন জায়গায় পর্যটনে রত ছিলেন যার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে অতটা সাক্ষাৎ করতে পারত না । এর কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর পরিবারের সঙ্গী থাকতো বেশি কোথাও তিনি যেতেন না । একমাত্র স্কুলে যাওয়া ছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাইরে যাওয়া বারণ ছিল । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাইরের প্রকৃতির সঙ্গে থাকতে এবং তাদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য ব্যাকুল ছিলেন । এর ফলে তার প্রকৃতির নিরব এবং গভীর এক ভালোবাসার সৃষ্টি হয় যা তিনি তাঁর লেখায় সবসময় ফুটিয়ে তুলতে । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ির ভিতরে থাকতে ভালো লাগতো না । তার এই পরিবেশকে ভৌতিক পরিবেশ এর মত লাগতো ।

রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা শুরু হয় তার দাদা হেমেন্দ্রনাথ  এর হাতে ।  ছোটবেলা থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুস্থ সবল এবং বলবান ছিলেন । তিনি রোজ গঙ্গায় সাতার কাটবেন । পাহাড়ি রাস্তায় হাটতে যেতেন । এবং তিনি কুস্তি ও শিখতে ।  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ধারাবাহিক শিক্ষার সে পছন্দ করত না । ছোট সময় তার পরিবারের লোকজন গৃহশিক্ষকের কাছে বাল্য পাঠ শুরু করার । কিন্তু তার ধারাবাহিক শিক্ষা পছন্দ নয় বলে তিনি আট বছর বয়সে কলকাতার একটি সাধারণ স্কুলে ভর্তি হয় । কিন্তু তার ওই স্কুল জীবন ভাল লাগেনা । তার মতে ইস্কুলের শিক্ষাজীবন নিষ্প্রাণ । পরবর্তীতে তিনি এই শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাই সে আবার গৃহশিক্ষকের কাছে বাংলা ,আরবি , ফারসি, এবং ইংলিশ বিষয়ে শিক্ষা লাভ করতে চলে আসে । তিনি তার গৃহশিক্ষকের কাছে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষা লাভ করতে থাকে। তার বাবা ছিলেন অনেক জ্ঞানী মানুষ। তাই তিনি তার বাবার কাছে জ্যোতিষ বিদ্যা, সংস্কৃত, ব্যাকরণ শিক্ষা লাভ করতেন । তিনি এইভাবে আস্তে আস্তে শিক্ষা লাভ করতে থাকেন । যখন তিনি বড় হয় তখন তার উচ্চশিক্ষা লাভ করার ইচ্ছে হয় । তাই তার বয়স যখন ১৭ বছর তখন তার বড় ভাই সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য বিলাত যায় । তিনি বিলাতে ব্রিটিশ পাবলিক স্কুল এবং তারপরে লন্ডন ইউনিভার্সিটি কলেজে অধ্যায় শুরু করে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৭৩ সালে তার বাবার সঙ্গে প্রথম বিদেশে শান্তিনিকেতনে যায় । সেখানে তিনি কয়েকটা গৃহ নির্মাণ করেছিলেন । যার কথা তার লেখা থেকে জানা যায় ।

১৯৭৮ সালের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম বিলাদ গমন করেন । সেখানের পড়ালেখা করার উদ্দেশ্যে তিনি যায় । সেখানে ঠাকুর পরিবারের বাড়ি ছিল সেই বাড়ি থেকে তিনি তার লেখাপড়া চালিয়ে যায় । সেখানে তিনি ব্রাইটন কলেজে ভর্তি হন । পরে তার দাদা সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছেলে ও মেয়ে পড়ালেখার জন্য তার কাছে চলে যায় । তখন তারা একসঙ্গে ঠাকুর পরিবারে বিলেতে থাকতেন । তিনি এই ভাবে তার পড়ালেখা চালিয়ে যেতে থাকেন । কিন্তু সব সময় তার দেশের প্রতি জন্মভূমির প্রতি টান থাকে। তারপরে তিনি সেখানকার একটি ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি হন ডিগ্রী অর্জন করার জন্য । কিন্তু তিনি ডিগ্রী অর্জন না করে দেশে ফিরে আসেন ।তবে তিনি সেখান থেকে ইংরেজি এবং বাংলা সাহিত্যের বিষয় স্পষ্ট একটি ধারণা পায়। যা পরে তার লিখতে সাহায্য করে তাকে । তিনি তার এই দুই জগত থেকে অভিজ্ঞতা লাভ করে এবং পরবর্তীতে তিনি অভিজ্ঞ হয় তার লেখার মাঝে সমস্ত প্রতিফলিত করে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের অনেক রীতিনীতি পরিবর্তন করেছেন এবং নতুনত্ব এনেছেন । তিনি ছিলেন চমৎকার একজন প্রতিভাবান মানুষ ।‌ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর “ভিখারি” গল্প রচনা করে এটাই ছিল বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প । ১৮৭৮ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্যগ্রন্থ রচিত হয় । যার নাম হল কবিকাহিনী । এই একই সময়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ “সন্ধ্যাসংগীত” রচনা করে । “নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ” কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের । এইভাবে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিখ্যাত লেখা লিখে তিনি বিশ্বের দরবারে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে গিয়েছে

১৯৮৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার বাড়ির মানে ঠাকুরবাড়ির কর্মচারী বিনিময় রায়চৌধুরীর কন্যা ভারতিনীর সঙ্গে তার বিয়ে হয় ।বিবাহর পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রীর নাম রাখা হয় মৃণালিনী দেবী । তাদের চার জন সন্তান ছিল । যাদের মধ্যে রেনুকা এবং শামীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছোটবেলায় তাদের মৃত্যু হয় ।

১৯৮১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর বাবার আদেশ ঝেনিদাহ বর্তমান বাংলাদেশের চলে আসেন । তাদের জমিদারি দেখাশোনার এবং খাজনা আদায়ের জন্য তিনি এখানে এসে পড়েন ।তিনি এখানে এসে প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় এবং তাদের সকল সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা করেন । তার ব্যবহারের জন্য তিনি সকল পূজার কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন এবং প্রজারাও তার জন্য প্রার্থনা করতেন । তিনি এখানে এসে এখানকার মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন এবং তার এই গ্রাম বাংলার প্রকৃতি অপরূপ রূপ তার মনে নানা গ্রন্থ এবং কবিতা সংগীতের লেখার জন্য তাকে উতফুলো করে তুলতো । তিনি এখানে এসে বহু কবিতা ,গ্রন্থ ,রচনা ,প্রবন্ধ লিখেছেন । তিনি বাংলায় এসে বলেছেন বাংলার প্রকৃতির এত সুন্দর যে যায় একবার দেখলে চোখ কেউ সরাতে চাবে না । তিনি বিশ্বদরবারে বাংলার অপরূপ প্রকৃতি তুলে ধরেছেন তাঁর লেখার মাঝে । বাংলার অপরূপ রূপ নদী-নালা গাছপালা এবং এই দেশের সাধারণ মানুষ জন তার কাছে খুবই ভালো লাগে । তিনি তার বাবার আদেশ অনুযায়ী সকল প্রজাদের কাছ থেকে সঠিক খাজনা আদায় করতেন । তিনি সঠিক ভাবে তার কাজ করে তার বাবাকে দেখিয়ে দিয়েছেন যে তিনি কত বড় একজন দায়িত্বশীল মানুষ । তিনি প্রজাদের সাথে কোন অন্যায় অবিচার এবং ঝামেলা না করে তাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করতে সক্ষম হয়েছিল ।

রবীন্দ্রনাথ ছোটবেলা থেকে অনেক লেখালেখি করতেন। তার মধ্যে একটি খুবই বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ উঠে আসে তার ছোটবেলার লেখা একটি কাব্যের । তার সেই কাব্যগ্রন্থের নাম হল “মানসী” । এটি দেশে-বিদেশে অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছে । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কম বয়সে যে কয়টি কাব্যগ্রন্থ লিখেছিল তার মধ্যে এটি অন্যতম জনপ্রিয় একটি কাব্যগ্রন্থ । যখন রবীন্দ্রনাথের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে তখন তিনি বিখ্যাত কিছু কাব্যগ্রন্থ এবং সংগীত রচনা করেন । যার মধ্যে অন্যতম হলো প্রভাত সঙ্গী ,শৈশবসঙ্গী এবং কোমর রচনা করেন । যা খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল ।

১৯২১ সালে শান্তিনিকেতনের অদূরে সুরুল গ্রামে মার্কিন কৃষি গবেষণা বিদ এবং বিভিন্ন শিক্ষক এবং ছাত্রদের নিয়ে তিনি একটি সংগঠন তৈরি করেন । এর নাম দেয়া হয় “পল্লী সংগঠন কেন্দ্র” । এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামের কৃষকদের উন্নত কৃষি বিষয়ে ধারণা দেওয়া , ম্যালেরিয়া রোগ সহ বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা , চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য সচেতন বিষয়ে তারা গ্রামের মানুষদের সচেতন করে । বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের ধারণা দেওয়া এবং তা ব্যবহার করার নিয়ম তারা দেখিয়ে দিত । কোন সময় জমিতে কি চাষ করতে হবে এবং কি পরিমাণে সার দিতে হবে তাও তারা এই সংগঠন থেকে বলে দিত। কার এই সংগঠনের দেশ-বিদেশের অনেকে সাহায্য পাঠাতেন ।তিনি এই সাহায্য দিয়ে গ্রামের সাধারণ কৃষক এবং সাধারণ মানুষের সকল সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ পরিমাণে চেষ্টা করেছেন । সেই সময় ম্যালেরিয়া রোগের বিস্তার এবং ভয়াবহতা ছিল অনেক বেশি । এই রোগের জন্য অনেক মানুষ মারা যেত । আর তাদের যথাসম্ভব চিকিৎসা এবং এই রোগ কিভাবে ছড়ায় এবং কিভাবে প্রতিকার করা যায় তা তাদের সবাইকে বলে বলে দিতেন তিনি । শুধু ম্যালেরিয়া রোগ নয় এছাড়া অন্যান্য যত ভয়াবহ এবং ছোঁয়াচে রোগ ছিল তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছিলেন লীগের সাধারণ গ্রামবাসীদের । এবং যারা খুব বেশি অসুস্থ ছিলেন তাদের জন্য হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ছিল তারা তাদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই সংগঠন থেকে তারা চিকিৎসা পেতেন । নেই থেকে বোঝা যায় যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত বড় মনের মানুষ ছিলেন যার জন্য এই গ্রামে সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বর্ণাশ্রম প্রথা বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন । ১৯৩০ দশকে তিনি তার বক্তৃতা এবং লেখার মাধ্যমে তিনি তার তীব্র প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে থাকে । তিনি এই প্রথা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন । এইটা দেখে বোঝা যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী কবি ছিলেন । তিনি সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। তিনি কাউকে ভয় করতেন না তিনি সাধারণ মানুষের উপরে অন্যায় অবিচার দেখলি তার প্রতিবাদ করতেন এবং তার প্রতিবাদী কলম হাতে তুলে নিয়ে তার লেখার মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে ।

রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বিচিত্র প্রতিভার অধিকারী ।তিনি ছোটবেলা থেকেই অনেক জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান ছিলেন ।তাঁর প্রতিভার বিকাশ ছোটবেলা থেকেই দেখা যায় তার মধ্যে।তিনি মাত্র নয় বছর বয়সে কবিতা লিখতে শুরু করে এবং তাতে তিনি সফল হয় তার কবিতা তার পরিবার এবং তার প্রতিবেশী লোকজনের কাছে অনেক ভালো লাগে । তার জন্য তিনি তার দেশে অনেক আদরের ছিলেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আট বছর বয়স থেকেই লিখতে শুরু করেন । তার লেখা তার দাদা শুনতেন এবং পরিবারের সবাইকে শুনানোর জন্য তাকে বলতেন।  তার যখন বয়স ১৫ তখন” বনফুল “কাব্য গ্রন্থ প্রকাশিত হয় । তিনি ২২ বছর বয়সে বিবাহ করেন । বাংলাদেশের খুলনা জেলার দক্ষিণদীহির এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারের এক সুন্দরী কন্যা কে তিনি বিয়ে করেন । তারপরের দিনই জমিদারি পরিচালনা করার দায়িত্ব পান । সেই সুবাদে তিনি কুষ্টিয়ার , ঝিনাইদহে চলে আসেন । সেখানে বাংলার অপরুপ দৃশ্য সবুজ শ্যামল প্রকৃতির দেখে তিনি মুগ্ধ হয় এবং রচনায় নতুন এক মাত্রা যোগ হয় । সেখানকার মানুষের জীবন যাপন দেখে তিনি বড়ই মুগ্ধ হন এবং তাদের সাথে মানিয়ে নেন ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন একজন আদর্শ দেশ প্রেমিক কবি । তার কবিতায় স্পষ্ট দেশপ্রেম ফুটে উঠে । তিনি দেশের প্রয়োজনে নির্ভয় তার লেখার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায় । বাংলাদেশ যখন যুদ্ধ চলছিল তখন তিনি অনেক লেখালেখি করেন যা সেই সময় বাংলাদেশীদের মনে সাহস যুগিয়েছে । তিনি বাংলাদেশ , ভারত সহ কয়েকটি দেশের জাতীয় সংগীত রচনা করে ।এজন্য যতদিন বাংলা ভাষা চর্চা করা অব্যাহত থাকবে ততদিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আমাদের মণিকোঠায় নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল হয়ে থাকবে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর জীবনের অসংখ্য কবিতা, গান ,নাটক ও প্রবন্ধ রচনা করেছে ।তার মধ্যে অন্যতম কিছু গ্রন্ধ হলো গোড়া ,ঘরে বাইরে, শেষ কবিতা, গীতাঞ্জলি ,নৌকাডুবি ,রাজা ,বিসর্জন ইত্যাদি ।

তিনি ১৯১০ সালে “গীতাঞ্জলি” কাব্য গ্রন্থ রচনা করেন । যদি বিশ্ব দরবারে অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল । ১৯১২ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ ইংরেজি অনুবাদ করেন । ১৯১৩সালে গীতাঞ্জলি কবিতা ইংরেজিতে অনুবাদ করার জন্য সুইডেনে তাকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয় । পরে ব্রিটিশ সরকার তার এই প্রতিভার জন্য তাকে “স্যার” উপাধিতে ভূষিত করে । এ ছাড়াও অসংখ্য উপধি এবং পুরস্কার পায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর জীবনে । তার লেখা শুধু বাংলাতেই না বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয় । আর শুধু প্রকাশিত হয় না সেটি বিশ্বের সকল দেশে এবং সকল ধরনের মানুষের কাছে তার লেখা অনেক জনপ্রিয়তা পায় ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন নাট্যকার ,ছোটগল্প লেখক ,সংগীতের সুরকার ,রাজনীতিবিদ, অভিনেতা, সংগীতশিল্পী, শিক্ষাবৃত্তি ,চিত্রশিল্পী ও সাহিত্য সমালোচক । বাংলা সাহিত্যের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে তার পদধ্বনি পড়েনি । তিনি ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার পায় । তখনকার ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ” স্যার “উপাধিতে ভূষিত করে । এজন্যই তার লেখা দেশসহ দেশের বাইরে অনেক জনপ্রিয় ছিল ।

কবি শেষ ১০ দশকে মোট ৫০ টি গ্রন্থ রচনা করেন । তার এই সময় উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ হল-

  • পুনশ্চ (১৯৩২)

  • শেষ সপ্তাহ (১৯৩৫)

  • শ্যামলী ও পুত্রপুট (১৯৩৬)

এইসময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাব্যগ্রন্থ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যেতে থাকেন । পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন নৃত্য সংগীত ও কাব্যনাট্যের অভিনয় সুলভ রূপ আবিষ্কৃত করে । তিনি শেষ সময়ে তিনটি উপন্যাস লেখেন । উপন্যাস গুলোর নাম হল –

  • দুই বোন (১৯৩৩)

  • মালঞ্চ (১৯৩৪)

  • চার অধ্যায় (১৯৩৪)

জীবনের শেষ সময় তিনি বিজ্ঞান চর্চা নিয়ে মগ্ন হয়ে থাকতেন । পরবর্তীতে তিনি এ নিয়ে একটি প্রবন্ধ রচনা করেন । যার নাম হল “বিশ্ব পরিচয়”।

এই প্রবন্ধে তিনি জ্যোতিষ বিদ্যা আধুনিকতম যুক্তিগুলো বাংলা ভাষায় সহজভাবে তুলে ধরেন ।

তিনি বিজ্ঞানের বিষয় নিয়ে তিনটি কাব্য রচনা করেন। যেটি খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছিল । কাব্যগুলো নাম হল-

  • সে (১৯৩৭)

  • তিনসঙ্গী (১৯৪০)

  • গল্পস্বল্প (১৯৪১)

জীবনের শেষ চার বছর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ধারাবাহিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন । দুবার অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে থাকতেন তিনি । একদিন ১৯৩৭ সালে তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন । সেবার সেরে উঠতে পারলেও ১৯৪০সালে আর একবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি কিন্তু সেবার আর তিনি সুস্থ হতে পারেন না মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই ভাবেই তিনি থাকেন ।

এই মহান কবি ১৯৪১   খ্রিস্টাব্দের ৭  ই আগস্ট পরলোক গমন করে । তিনি আজ হয়তো আমাদের মাঝে নেই কিন্তু তাঁর সৃষ্টি এবং তাঁর লেখা আমাদের মাঝে অমর হয়ে থাকবে চিরকাল এবং তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে ইতিহাসে ।

অন্যান্য পোস্টসমূহঃ

error: Content is protected !!