Menu Close

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO):


সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, এসইও, seo, search engine optimizationসার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (ইংরেজিঃ Search Engine Optimization) হল এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে কোন ওয়েব পেইজ বা ওয়েবসাইট কে সার্চ ইঞ্জিন (অনুসন্ধান যন্ত্র)-এর ফলাফল গুলোর মধ্যে প্রথম দিকে আনার চেষ্টা করা হয়। যাতে করে কেউ ঐ বিষয় সার্চ দিলে ওয়েবসাইটটির ফলাফল প্রথম দিকে প্রদর্শন হয়। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনকে সংক্ষেপে এসইও (SEO) বলা হয়।খুব সহজ ভাষায় বলতে গেলে,

ওয়েবসাইটের সমস্ত তথ্য সার্চ ইঞ্জিনের কাছে নিয়মমাফিক ভাবে উপস্থাপন করাটাই হল এসইও। যাতে সার্চ ইঞ্জিন তা সহজেই গ্রহকদের কাছে পৌছে দিতে পারে।

অর্থাৎ যদি আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকে তবে সেই ওয়েবসাইট দিয়ে কি কি কাজ করা যায় বা ওয়েবসাইটটিতে কি বিষয়ক তথ্য আছে তা সার্চ ইঞ্জিনের কাছে উপস্থাপন করার মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফলে আসা।

ইন্টারনেটে অনেক সার্চ ইঞ্জিন (অনুসন্ধান যন্ত্র) আছে যেমন গুগল, ইয়াহু, বিং ইত্যাদি। সাধারণত সার্চ ইঞ্জিন গুলোর অনুসন্ধান রোবট বা সার্চ স্পাইডারগুলো সবসময় এক ওয়েব পেইজ থেকে অন্য ওয়েব পেইজে ভ্রমণ করতে থাকে। এই সকল অনুসন্ধান রোবটগুলো ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে শ্রেণীবদ্ধভাবে সজ্জিত করে রাখে এবং যখন ব্যবহারকারী অনুসন্ধান যন্ত্রে কোন তথ্য খোঁজ করে তখন অনুসন্ধান যন্ত্র খোজকৃত শব্দগুচ্ছের সাথে মেলে এমন ফলাফল প্রদর্শন করে।

আবার যেহুতু অনুসন্ধান যন্ত্রের নিজের কোন বুদ্ধি নেই তাই যদি ওয়েবসাইটের তথ্য সমূহ অনুসন্ধান যন্ত্রের কাছে সঠিক ভাবে উপস্থাপন না করা যায় তাহলে অনুসন্ধান যন্ত্র ঐ সকল তথ্য তাদের ফলাফলে দেখাবে না। ফলে ঐ তথ্যসমূহ সাধারণ গ্রাহকের কাছে পৌছাবে না। সুতরাং, মোট কথা সার্চ ইঞ্জিনের কাছে নিজের ওয়েবসাইকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করটাই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন।

ইতিহাসঃ


১৯৯১ সালে ৬ই আগস্ট টিম বার্নাস লি এর হাত ধরে প্রথম ওয়েবপেইজ প্রকাশ করার পর থেকেই মানুষ মূলত এসসিও এর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে থাকে। কারন বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিভিন্ন তথ্য থাকলেও তা খুঁজে পাওয়া এত সহজ ছিলনা। ইয়াহু সর্ব প্রথম এ্যালফ্যাবেটিক অপটিমাইজেশন পদ্ধতির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ১৯৯৪ সালে। ইয়াহুর প্রতিষ্ঠাতা ছিল জেরি ইয়াং এবং ডেভিড ফিলো। এবং ১৯৯৭ সালে এসইও অফিশিয়ালভাবে যাত্রা শুরু করে। এছাড়া, ল্যারি পেজ এবং সের্গেই ব্রিন এর হাত ধরে ১৯৯৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সাম্প রুল পদ্ধতির সাথে গুগলের জন্ম হয়। তবে এসসিও এর গুরুত্ব বাড়তে থাকে ২০০১ সালের পর থেকে।

প্রকারভেদঃ


সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন প্রধানত ২ প্রকার। (১) হোয়াইট হেট এসইও (২) ব্ল্যাক হেট এসইও

সার্চ ইঞ্জিন এর নিয়নিতি মেনে যে এসইও করা হয় সেটা হোয়াইট হ্যট এসইও বলে। আর সার্চ ইঞ্জিন এর নিয়ম নিতি না মেনে যে এসইও করা হয় সেটা ব্লাক হ্যট এসইও। ব্লাক হ্যট এস ই মুলত সার্চ ইঞ্জিন এর নিয়ম নিতি না মেনে করা হয় তাই এটা করা অপরাধ। সার্চ ইঞ্জিন যদি কোনভাবে বুঝতে পারে তাহলে ব্ল্যাক হ্যট এসসিও করা ওয়েবসাইট টি ব্লাকলিস্ট করে দিতে পারে।হোয়াইট হ্যট সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন আবার ৩ প্রকার প্রকার। যথাঃ

১। অনপেইজ এসইও

২। টেকনিকাল এসইও

৩।অফপেইজ এসইও

অনপেজ এসইওঃ অনপেজ এসইও হচ্ছে ওয়েবসাইটের বা ওয়েব পেইজের ভিতরকার কাজ। যেমনঃ

  • ওয়েব পেইজের নাম বা টাইটেল
  • ওয়েব পেইজের মেটা বিবরণ বা মেটা ডেস্ক্রিপশন
  • ওয়েব পেইজের মেটা কিওয়ার্ড ট্যাগ
  • ওয়েব পেইজের ব্যবহৃত ছবিগুলোর টাইটেল
  • ওয়েব পেইজে ব্যবহার করা ছবিগুলোর অল্টা ট্যাগ
  • ওয়েব পেইজে ব্যবহার করা ছবিগুলোর ক্যাপশন
  • ওয়েবসাইটের বিভিন্ন পেজের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা
  • অন্য ওয়েবসাইটের সাথে সংযোগ স্থাপন করা অর্থাৎ বহি:সংযোগ

টেকনিকাল এসইওঃ ওয়েবাসাইটের ভিতরের বা বাহিরের টেকনিকাল কাজ। যেমনঃ

  • সাইটের লোডিং স্পিড
  • সাইটটির মোবাইলে ব্যবহার যোগ্যতা
  • ইনডেক্সিং
  • সাইট ডিজাইন ও গঠন
  • সিকিউরিটি

অফপেজ এসইওঃ অফপেজ এসইও হচ্ছে ওয়েব পেইজের বাহিরের কাজ। যেমনঃ

  • সাইটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা।
  • ব্যাকলিংক তৈরি বা অন্য ওয়েবসাইটের সাথে সংযোগ

এসইও গুরুত্বঃ


এস ই ও মুলত নিজের ওয়েবসাইট কে সার্চ ইঞ্জিন এর প্রথম পাতায় নিয়ে আসার জন্য করা হয়। মানে যখন কোন লোক সার্চ ইঞ্জিন এ ঢুকে তার কাঙ্ক্ষিত বিষয় লিখে সার্চ দেয় তখন যাতে সার্চ রেজাল্ট এ আপনার ওয়েবসাইটটি সবার আগে দেখা যায় সেজন্য এসইও করা হয়। এসসিও না করলে যত গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট হোক না কেন তা গ্রাহকদের কাছে সহজে পৌছাতে পারবে না। ফলে অন্য ওয়েবসাইট আপনার ওয়েবসাইটের জায়গা নিয়ে নেবে। তাই যে কোন ওয়েবসাইটের জন্য সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্রঃ


১। উইকিপিডিয়া

অন্যান্য পোস্টসমূহঃ

error: Content is protected !!