Menu Close

অপারেটিং সিস্টেমঃ

অপারেটিং সিস্টেম (ইংরেজি: Operating System), সংক্ষেপে OS এর মানে হলো কোন কিছু পরিচালনা করা। একটি অপারেটিং সিস্টেম এর মূল কাজ হলো কম্পিউটার এর চলাকালে প্রোগ্রামগুলোকে ম্যানেজ করা। সহজ ভাবে বলতে গেলে,

অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে এমন একটি সফটওয়্যার যার কাজ হলো ব্যবহারকারীর নির্দেশ মত কম্পিউটারে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এর মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা এবং কম্পিউটারে বিভিন্ন প্রোগ্রাম যেমনঃ ইনপুট , আউটপুট, স্টোরেজ এবং প্রসেসর ইত্যাদির কাজ সঠিকভাবে করতে সাহায্য করে।

অপারেটিং সিস্টেমের প্রথম কাজ হলো কম্পিউটার অথবা মোবাইল ফোন এর হার্ডওয়ারের সাথেই অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার গুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করা । অপারেটিং সিস্টেম নির্দেশ মত ব্যবহারকারীর ইনপুট নিজে গণনা করে কম্পিউটারের স্ক্রিনে আউটপুট হিসেবে প্রদর্শন করে । এই প্রক্রিয়ায় কে বলা হয় ভার্চুয়ালাইজেশন ।

কম্পিউটার হার্ডওয়ার শুধুমাত্র অপারেটিং সিস্টেমের ভাষায় বুঝতে পারে । অপারেটিং সিস্টেমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল যেকোনো রিসোর্স গুলোকে ভিন্ন ভিন্ন প্রোগ্রামের মধ্যে বণ্টন করে দেয় । যাতে এক প্রোগ্রাম থেকে অন্য প্রোগ্রামের অ্যাপ্লিকেশনে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে ।

অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া যেকোনো কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনে কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করা যায় না ।

অপারেটিং সিস্টেম এর ইতিহাসঃ

1950 দশকের শেষের দিকে টেপ স্টরেস এর পরিচালনায় অপারেটিং সিস্টেম প্রথম বিকাশ হয়েছিল । জেনারেল মোটরস গবেষণা ল্যাবে আইবিএম 701 এর জন্য প্রথম অপারেটিং সিস্টেম প্রয়োগ করা । 1960 দশকের মাঝামাঝি সময়ে অপারেটিং সিস্টেমের ডিস্ক ব্যবহার করা শুরু হয় । 1960 দশকের শেষের দিকে ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেমটি প্রথম বিকাশ করা হয় । মাইক্রোসফটের কর্তৃক প্রথম আবিষ্কৃত অপারেটিং সিস্টেমের নাম হল ডস । 1983 সালে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এর অস্তিত্ব নিয়ে আসেন ডি ইউ আই । এটা প্রথমে ডস অপারেটিং সিস্টেম এর উপর নির্ভর করে তৈরি করা হয়েছিল । উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম বর্তমানে সবচাইতে জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম ।

অপারেটিং সিস্টেম এর কার্যাবলীঃ

অপারেটিং সিস্টেম অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে। আপনি কি সিস্টেম হল যে কোনো কম্পিউটার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম। বর্তমানে আধুনিক কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম বিভিন্নমুখী এবং জটিল।

আধুনিক অপারেটিং সিস্টেমের কার্যাবলী গুলোকে চার ভাগে ভাগ করা হয়

প্রোগ্রাম পরিচালনা করা

প্রোগ্রাম পরিচালনা করা অপারেটিং সিস্টেম এর মূল কাজ গুলোর মধ্যে অন্যতম । অপারেটিং সিস্টেম রুটিন এবং ফাংশন অনুযায়ী কাজ করে । এছাড়াও প্রোগ্রাম পরিচালনা করার জন্য যা যা করা অতি জরুরী সে সমস্ত অপারেটিং সিস্টেম বন্টন করে দেয় । 

প্রসেসর ব্যবস্থাপনা 

কম্পিউটারের প্রসেসর একটি সিরিয়াল ডিভাইস হওয়ার জন্য এটি একই সময়ে যেকোনো প্রসেস এর কাজ করতে পারে । যেকোনো কম্পিউটারে একই সাথে অনেক প্রসেস প্রক্রিয়া দিন থাকে । আর অপারেটিং সিস্টেম এটা নির্ধারণ করে যে , কখন কোন প্রসেস  কম্পিউটারের প্রোগ্রাম এর মধ্য দিয়ে ফাংশনাল কাজে ব্যবহৃত হবে । 

স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা

অপারেটিং সিস্টেমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল সিস্টেম স্ট্রেসকে সিস্টেম ফাইল হিসেবে রূপান্তর করা । অপারেটিং সিস্টেম এর মাধ্যমে যেকোনো ফাইল স্টরেস এর কোন অংশে কতটুকু স্টরেস নিয়ে আসে সেটা নির্ধারণ করে । এছাড়াও অপারেটিং সিস্টেম ডায়নামিক ভাবে স্টরেস খালি এবং বন্টন করতে সক্ষম ।  

মেমোরি ব্যবস্থাপনা

কম্পিউটারের যেকোনো প্রসেস  চলার সময় , প্রয়োজনীয় ফাইল স্টোরেজ থেকে র‍্যাম এ লোড করে দেয় । এই কাজে অপারেটিং সিস্টেম ঠিক করে দেয় কোন প্রসেস এ মেমোরি কতটুকু জায়গা কতক্ষণ এবং কিভাবে ব্যবহার করবে । 

ইনপুট ও আউটপুটঃ

ব্যবহারকারী সরাসরি কম্পিউটারে ইনপুট আউটপুট ব্যবহার করতে পারে না । অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে ইনপুট এবং আউটপুট ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা কাজ করতে পারে । ইনপুট এবং আউটপুট দিতে বা নিতে হলে অবশ্যই অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করা থাকতে হবে। 

সমস্যা প্রতিবেদন এবং সংশোধন

ওয়েটিং সিস্টেম যে কোন ত্রুটির জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ত্রুটির ক্ষেত্রে সমস্যা গুলোর যত্ন নেয় এবং পরীক্ষার রিপোর্ট প্রদর্শন করে।

নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা

আধুনিক অপারেটিং সিস্টেমগুলো এক বা একাধিক কম্পিউটার এর মধ্যে সম্পর্ক গঠন করে দেয় । 

সুরক্ষা ও নিরাপত্তা

কম্পিউটারের যে কোন এক প্রসেস অন্য যে কোন প্রসেস এ রাতে বিঘ্ন  না ঘটে সেদিকে অপারেটিং সিস্টেম খেয়াল রাখে । যার মাধ্যমে কম্পিউটারের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে । এছাড়াও অজ্ঞাত ব্যবহারকারী থেকে কম্পিউটারের রিসিভার গুলোকে সুরক্ষা দেয় । তথ্য চুরি রোধ করে । 

অপারেটিং সিস্টেম কিভাবে কাজ করেঃ

আমরা প্রতিদিন কম্পিউটারের মাধ্যমে নানা কাজ করার সময় একের অধিক ট্যাব ব্যবহার করে থাকে । একাধিক ট্যাব ব্যবহার করে আমরা নানা রকম কাজ করি। অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটার হার্ডওয়ার এবং সফটওয়্যার মধ্যে থাকে ।‌ 

কম্পিউটার অন করার ক্ষেত্রে অপারেটিং সিস্টেম এর প্রসেস গুলো হল, 

প্রথম বৈদ্যুতিক সুইচ বোর্ডে কম্পিউটারের সমস্ত ব্লাক লাগিয়ে সি পি ইউ অন করতে হবে । সিপিইউ অন করার সাথে সাথে কম্পিউটারের র‍্যাম , হার্ডডিস্ক ইত্যাদি ওপেন করে দেয় । তখন কম্পিউটারের হার্ডডিক্স কর্নেলকে নির্দেশ করে এবং কর্নেল গিয়ে অপারেটিং সিস্টেম কে নির্দেশ করে । 

কর্নেলের নির্দেশ পেয়ে অপারেটিং সিস্টেম ডিসপ্লে অন করে দেয় । 

তেমনি ভাবে সফটওয়্যার ইন্সটল করার ক্ষেত্রে, প্রথমে অপারেটিং সিস্টেম হার্ডওয়ার এর উপরে চালু হয়  । অপারেটিং সিস্টেম চালু হয় ওই ডিভাইসের ভার্সন এর ক্ষমতা অনুযায়ী এপ্লিকেশনটি ইন্সটল করে দেয় । 

অপারেটিং সিস্টেমের প্রসেস দেখলে মনে হয় অনেক লম্বা সময়ের এবং বেশ জটিল ‌ । কিন্তু বাস্তবে এগুলো সম্পন্ন হতে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মতনই সময় লাগে । অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারের ম্যানেজার এর মত কাজ করে । 

বহু প্রোগ্রামিং 

সিপিইউ সর্বাধিক দক্ষ ভাবে ব্যবহার করার জন্য আধুনিক অপারেটিং সিস্টেম গুলোতে বহু প্রোগ্রামিং ব্যবহার করা হয়ে থাকে । এতে করে কম্পিউটারের মেমোরিতে একাধিক কাজ থাকতে পারে যার ফলে সব সময় কোন না কোন কাজ প্রস্তুত থাকে যা সিপিইউ কে দিয়ে সহজভাবে করিয়ে নেওয়া যায় । বহু প্রোগ্রামিং ব্যবস্থার একটি রূপ হল সময় শেয়ার করি ব্যবস্থা । এই ব্যবস্থায় সিপিইউ এর সিডিউল এর সাহায্যে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এক কাজ থেকে অন্য কাজে সুইচ করা যায় । যার ফলে মনে হয় সবগুলো কাজ একসাথে চলছে । 

মোড

ব্যবহারকারীর প্রোগ্রাম গুলো যাতে কম্পিউটারে কোন ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে সেজন্য হার্ডওয়ার দুটি মোড়ে চলে । এই মোড দুটির নাম হল,

  • কর্নেল মোড
  • ব্যবহারকারী মোড

হল্টিং নির্দেশগুলো সহ অন্যান্য প্রিভিলেজ প্রাপ্ত নির্দেশ গুলো শুধু কর্নেল মোডে চলে । মেমোরি যেখানে অপারেটিং সিস্টেম রাখা হয় । সেই ফাইলকে ব্যবহারের কাছ থেকে সুরক্ষিত রাখতে হয় । যাতে ব্যবহারকারী এর কোন পরিবর্তন করতে না পারে । যদি পরিবর্তন করতে তাহলে কম্পিউটার প্রোগ্রাম সঠিকভাবে কাজ করবে না । এর জন্য টাইমার ব্যবহার করা হয় । 

প্রসেসঃ

প্রসেস হলো অপারেটিং সিস্টেমের কাজ এর মৌলিক একক । পুরো শেষ ব্যবস্থাপনা বলতে প্রসেস সৃষ্টি করা , প্রসেস মুছে ফেলা , প্রসেস গুলো একে অন্যের সাথে কিভাবে যোগাযোগ করতে পারে এবং সময় মিলিয়ে চলতে পারে তার মেকানিজম গুলো প্রদর্শন করা ইত্যাদি কাজ কে বুঝায় । অপারেটিং সিস্টেম ডায়নামিক ভাবে মেমোরি এলাকা খালি করতে পারে এবং বন্টন করতে পারে । অপারেটিং সিস্টেম স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা দেখাশোনা করে । এই কাজের মধ্যে আছে ফাইল ও ডিরেক্টরি উপস্থাপনের জন্য ফাইল সিস্টেম প্রদান করে , গণ স্টরেস ব্যবস্থাগুলো জায়গা ব্যবস্থাপনা করে । 

অপারেটিং সিস্টেমের ব্যবহারঃ

কম্পিউটারের প্রসেসর এবং সক্ষমতার উপর নির্ভর করে অপারেটিং সিস্টেম দেওয়া হয় । 

real-time অপারেটিং সিস্টেম

real-time অপারেটিং সিস্টেমের যন্ত্রপাতি গুলো  বৈজ্ঞানিক যন্ত্র এবং শিল্প-কারখানায় ব্যবহার করা হয় । real-time অপারেটিং সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ হল কম্পিউটারের রিসোর্স পরিচালনা করা যেন প্রতিবার যখন নির্দিষ্ট কাজ করা হয় তখন সেটা যেন একই সময়ে এবং একই পরিমানে সম্পাদিত হয় । 

সিঙ্গেল ইউজার

সিঙ্গেল ইউজার অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারের জন্য এমন ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারী একবার কার্যকর ভাবে একটি কাজ সম্পাদন করতে পারে । 

মাল্টি টাস্কিং

বর্তমানে এই অপারেটিং সিস্টেমটি ব্যবহারকারীরা তাদের ডেস্কটপ বা ল্যাপটপে বহুল পরিমাণে ব্যবহার করে থাকে । মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এবং অ্যাপলের ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম এই অপারেটিং সিস্টেম এর একটি উদাহরণ । এই অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করার ব্যবহারকারীরা একই সময়ে একাধিক প্রোগ্রাম চালু করতে পারে । 

মাল্টি ইউজার

এই অপারেটিং সিস্টেমটি বর্তমান সময়ে বেশ জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে অন্যতম । এই সিস্টেম একসাথে একাধিক ব্যবহারকারীর  কম্পিউটারকে রিসোর্স গুলোর সুবিধা একই সাথে ব্যবহার করার সুবিধা দেয় । 

ইউনিক্স , ভিএমএস, মেইনফ্রেম অপারেটিং সিস্টেম গুলি

এমবিএস সহ বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম এই অপারেটিং সিস্টেমের অন্যতম উদাহরণ । 

অপারেটিং সিস্টেমের গুরুত্বঃ

অপারেটিং সিস্টেম বলতো কম্পিউটারের প্রসেসর কন্ট্রোল কাজই করেনা , এটি কম্পিউটারের হার্ডওয়ার এর শব্দ গ্রাফিক্স মেমোরির সর্বোচ্চ ব্যবহার করার সুবিধা দেয় । 

বর্তমানে বিশ্বের যত কম্পিউটার আছে সেগুলোতে যদি অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করা না হয় তাহলে সকল কম্পিউটার একদম অচল হয়ে যাবে । 

বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমের নামঃ

কয়েকটি জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম এর তালিকা হল,

১। গ্রাফিক্যাল ইউজার অপারেটিং সিস্টেম। যেমন,

  • উইন্ডোজ সি ইউ
  • উইন্ডোজ 98 ইত্যাদি

২। মাল্টি ইউজার অপারেটিং সিস্টেম। যেমন,

  • লিনাক্স
  • ইউনিক্স
  • উইন্ডোজ 2000 ইত্যাদি

৩। মাল্টিপ্রসেসিং অপারেটিং সিস্টেম। যেমন,

  • লিনাক্স
  • ইউনিক্স
  • উইন্ডোজ এক্সপি ইত্যাদি

৪। ট্রাবলশুটিং অপারেটিং সিস্টেম। যেমন,

  • উইন্ডোজ 7
  • উইন্ডোজ 8
  • উইন্ডোজ 10
  • ম্যাক ইত্যাদি

জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেমসমূহঃ

বিশ্বের সবথেকে বেশি ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেমগুলোর নাম হল, 

  • DOS
  • Windows
  • UNIX
  • LINUX
  • MAC OS
  • Androi

DOS অপারেটিং সিস্টেমঃ DOS অপারেটিং সিস্টেম এর পূর্নরূপ হলো disc operating system । DOS অপারেটিং সিস্টেম আবিষ্কার করেন মাইক্রোসফট কর্পোরেশন আইবিএম কোম্পানি । 

আইবিএম কম্পিউটারে ব্যবহৃত ডসকে পিসি ডস বলে। আইবিএম কম্পিউটার ব্যতীত অন্য কম্পিউটারে ব্যবহৃত হলে একে এমএস ডস বলে । এই অপারেটিং সিস্টেমটি আবিষ্কার হওয়ার পরে ব্যাপকভাবে আপডেট করা হয়েছে বর্তমান সময়ে । এই ভাবে ডস অপারেটিং সিস্টেমটি বিকশিত হয়েছিল । 

Windows অপারেটিং সিস্টেমঃ উইন্ডোজ একটিভ ব্যাপক জনপ্রিয় এবং ব্যাপক ব্যবহৃত একটি অপারেটিং সিস্টেম । আমেরিকার মাইক্রোসফট কর্পোরেশন এটি নির্মাণ করেন । 

প্রথমে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম বস উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এর উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল । এই জন্য উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমকে আলাদাভাবে অপারেটিং সিস্টেম বলা হয় না । 

প্রথমে বাজারে চালু হয়েছিল উইন্ডোজ 4 । তারপর বাজারে আসে উইন্ডোজ 5 । এরপর পর্যায়ক্রমে 6.2 প্রকাশিত হয়।সেই একই বছরে উইন্ডোজ 95 এবং 97 প্রকাশিত হয়েছিল । এই উইন্ডোজকে চালানোর জন্য ডস এর প্রয়োজন ছিল না । 

তারপরে বাজারে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয় উইন্ডোজ 7 । তারপর উইন্ডোজ 97 প্রকাশিত হয়েছিল । তারপরে তারা বাজারে নিয়ে এসেছে উইন্ডোজ এক্সপি এবং ভিস্তা windows 7 windows 8 windows 10 । বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থানে আছে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম । 

UNIX অপারেটিং সিস্টেমঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করা হয়েছিল । এটি আবিষ্কার করেছিলেন বেল টনসন । ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেম মিনি কম্পিউটার ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে । কিন্তু তারপরে এটি মেইনফ্রেম এবং ম্যাক্রো কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়েছিল। এটি একটি শক্তিশালী এবং কার্যকরী অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে বিবেচিত ।

LINUX অপারেটিং সিস্টেমঃ লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেম এর একটি সংস্করণ । এটি সর্বপ্রথম সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং গ্রাফিক্স কে শক্তিশালী করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল । বিভিন্ন বড় বড় অফিস, কর্মসংস্থান এবং বড় বড় সার্ভার গুলোতে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয় ।

MAC OS অপারেটিং সিস্টেমঃ ম্যাক ও এস এর পূর্ণরূপ হল ম্যাকিনটোশ অপারেটিং সিস্টেম । এটা আবিষ্কার করেছিলেন অ্যাপল কোম্পানি । এটি একটি গ্রাফিক্যাল অপারেটিং সিস্টেম । এপেল কম্পিউটার ছাড়াও অন্য যে কোন কম্পিউটারে এটা সহজ ভাবে ব্যবহার করা যায় । তবে সম্পূর্ণ পারফরম্যান্স পাওয়া যায় না ।

Android অপারেটিং সিস্টেমঃ অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করেছে গুগল কোম্পানি । এটি সাধারণত মোবাইলে ব্যবহার করা হয় । বিশ্বের সবচাইতে বেশি মোবাইল ফোনে এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয় । এটা বেশ জনপ্রিয় । 

প্রকারভেদঃ

সাধারণত অপারেটিং সিস্টেম 7 প্রকার । এগুলো নাম হল,

  • Batch operating system
  • Multitasking os
  • Multiprocessing OS
  • Real time OS
  • Distributed OS
  • Networking OS
  • Mobile OS 

ব্যাচ অপারেটিং সিস্টেমঃ কিছু কম্পিউটারের কার্যপ্রক্রিয়ার দীর্ঘ এবং সময় সাপেক্ষ । একই প্রক্রিয়ার গতি বাড়ানোর জন্য এবং একই ধরনের প্রয়োজনীয়তা সহ একটি কাজ একসাথে আবদ্ধ হয় এবং হিসাব চালানো হয় । ব্যাস ব্যবহারকারী কখনোই কম্পিউটারের সরাসরি যোগাযোগ করে না । 

মাল্টিটাস্কিং অপারেটিং সিস্টেমঃ মাল্টিটাস্কিং অপারেটিং সিস্টেম একই সময়ে একাধিক কাজ করতে সক্ষম এবং একাধিক ব্যবহারকারীর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয় । 

ডিস্ট্রিবিউটেড অপারেটিং সিস্টেমঃ ডিস্ট্রিবিউটেড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয় দ্রুত সময়ের মধ্যে বড় বড় গণনার সম্পাদনা করার কাজে । এটা বিভিন্ন মেশিনে একাধিক প্রসেসর ব্যবহার করতে সক্ষম । 

নেটওয়ার্কিং অপারেটিং সিস্টেমঃ নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম একটি সার্ভারে চলে 

 । এই অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে ডাটা ,অ্যাপ্লিকেশন ,নেটওয়ার্কিং ফাংশন পরিচালনা করতে সক্ষম । 

মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমঃ স্মার্টফোন , ট্যাবলেট ডিভাইস গুলোতে ব্যবহারের জন্য মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম ডিজাইন করা হয়েছে । একাধিক জনপ্রিয় মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমগুলো নাম হল অ্যান্ড্রয়েড , আইওএস , ব্ল্যাকবেরি, ওয়েব ইত্যাদি ।

মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমঃ

মোবাইলের অপারেটিং সিস্টেম বা ওএস অপারেটিং সিস্টেম হলো এমন একটি অপারেটিং সিস্টেম যা শুধুমাত্র মোবাইল ফোন, স্মার্ট ফোন, ট্যাবলেট ইত্যাদি মোবাইলের ডিভাইস গুলো চালানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।এটি ডাটা এবং প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে সমন্বিত করে। এটি মোবাইলের হার্ডওয়্যার পরিচালনা করে থাকে এবং মোবাইল ফোনের জন্য অ্যাপস ব্যবহার সম্ভব করে। 

মোবাইল ফোনের জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেমগুলোর নাম হল,

  • অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম
  • সিম্বিয়ান অপারেটিং সিস্টেম
  • আইওএস অপারেটিং সিস্টেম
  • ব্ল্যাকবেরি ওএস অপারেটিং সিস্টেম
  • উইন্ডোজ মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম 

কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনে অপারেটিং সিস্টেমের পরে গুরুত্বপূর্ণ হলো সফটওয়্যার । কারণ সফটওয়্যার ব্যতীত কম্পিউটার বা মোবাইল দিয়ে কোন কাজ করা সম্ভব নয় । 

পরিশেষে বলা যায় অপারেটিং সিস্টেম হলো , কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর একটা লিংক যার মাধ্যমে যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী কম্পিউটারে ইন্সট্রাকশন দেয়, আর অপারেটিং সিস্টেম সেই ইনস্ট্রাকশন কে বাস্তবায়ন করে ।

তথ্যসূত্রঃ

১। ট্রেন্ডি বাংলা

অন্যান্য পোস্টসমূহঃ

error: Content is protected !!