Menu Close

ইন্টারনেট (Internet) হলো সারা পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত ও পরস্পরের সাথে সংযুক্ত অনেকগুলো কম্পিউটার এর সমষ্টি যা সকল জনগণের জন্য উন্মুক্ত। যার মধ্যমে ডাটা আদান প্রদান করা হয়। ইন্টারনেট এর পূর্ণরূপ  হলো  interconnected network বা আন্তর্জাল। যেটা ইন্টারনেট প্রটোকল সুইচ ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বের একাধিক ডিভাইস সংযুক্ত করে।

ইন্টারনেট শুধুমাত্র তথ্য বা ডাটা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় আদান প্রদান করে থাকে । ‌যে প্রযুক্তি বা ডিভাইসগুলো একত্র করে ইন্টারনেট তৈরি করা হয়েছে তাদের প্রধান কাজই হলো তথ্য বা ডাটা আদান-প্রদান করা।

ইন্টারনেটঃ

ইন্টারনেট, আধুনিক টেলিযোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক বা মাধ্যম । এটি এমন একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক যেটা পুরো পৃথিবীর সকল কম্পিউটার কে একে অন্যের সাথে সংযুক্ত করে । কিছু সংখ্যক কম্পিউটার একে অন্যের সাথে যুক্ত হয়ে একটা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরি করে । এইভাবে পৃথিবীর সমস্ত কম্পিউটার রেখে অন্যের সাথে সংযুক্ত হয় যে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরি করে , সেগুলোর সমষ্টি কে ইন্টারনেট বলে ।  আইপি বা ইন্টারনেট প্রটোকল নামে এক ব্যবস্থার মাধ্যমে সকল কম্পিউটার একে অন্যের সাথে যুক্ত হয় ডাটা আদান-প্রদান করে । একে গ্লোবাল নেটওয়ার্ক বলা হয়ে থাকে ।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ( www ) হলো ইন্টারনেটে তথ্য গ্রহণের পদ্ধতি । এই পদ্ধতিতে হাইপারটেক্সট লিংক এর মাধ্যমে ইন্টারনেটে থাকা বিভিন্ন ডকুমেন্ট বা ফাইল একে অন্যের সাথে সংযুক্ত হয়। অনেকে ইন্টারনেট এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবকে একই মনে করলেও প্রকৃতপক্ষে শব্দদ্বয় দ্বারা ভিন্ন বিষয় বোঝায়।

কাজ করার পদ্ধতিঃ

ইন্টারনেট হলো কম্পিউটারের সেই নেটওয়ার্কের যার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন কম্পিউটারের সাথে যুক্ত হয়ে আছে । ইন্টারনেট ব্যবহার এবং কাজ করার জন্য তাকে তার বা গ্লোবাল নেটওয়ার্ক বা বেতার সংযোগের মাধ্যমে সংযুক্ত হতে হবে ।

তারপরে গ্লোবাল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত থাকা বিভিন্ন কম্পিউটারের সাথে আমাদের কম্পিউটারের রাউটার এবং সার্ভার সংযুক্ত হয়  । তারপরে বিভিন্ন ডেটা বা ইনফরমেশন সংগ্রহ করে নেয় । এইভাবে ইন্টারনেট কাজ করে ।

ইন্টারনেটের 99% যেটা আসে অপটিক্যাল ফাইবারের তারের মাধ্যমে এবং 1% আসে স্যাটেলাইট সংযোগ এর মাধ্যমে । কিন্তু আমরা তো অনেকেই মোবাইল এর সাহায্যে ইন্টারনেট ইউজ করি যার সংযোগ আসে টাওয়ার থেকে । বাস্তবে সেই টাওয়ার নেটওয়ার্ক সংযোগও আসে অপটিক্যাল ফাইবার এর মাধ্যমে ।

ইন্টারনেট সংযোগ আমাদের কাছে এসে পৌঁছায় তিনটি আলাদা আলাদা স্তরে । এই স্তর গুলোকে বলা হয় Tier । এই স্তর তিনটি হল Tier 1 , Tier 2 , Tier 3 । 

Tier 1

Tier 1 হ্যালো সেই সমস্ত কোম্পানি যারা নিজেদের টাকায় সারা পৃথিবীর সমুদ্র মধ্য দিয়ে ক্যাবল বিছিয়ে রেখেছে । কেবল গুলো চুলের চেয়েও সরু । কিন্তু এর মাধ্যমে খুব দ্রুত ভাবে 100 থেকে 200 জিবি পার সেকেন্ডে ডাটা আদান-প্রদান করা যায় । বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আলেদা আলাদা Tier 1  কোম্পানি আছে ।‌ যারা এক দেশ থেকে অন্য দেশে কেবল বিছিয়ে সারা বিশ্ব কে একত্রিত করেছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ।

এক দেশ থেকে অন্য দেশের এক প্রান্তে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল এর ল্যান্ডিং পয়েন্ট থাকে । বাংলাদেশের tier 1 কোম্পানির নাম হলো Bangladesh submarine cable company limited । তারপর ল্যান্ডিং ক্যাবল থেকে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় Tier 2 , Tier 3 ‌ এই দুই স্তরের মাধ্যমে ইন্টারনেট আপনার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয় ।

Tier 2

দেশের সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় Tier 1 কোম্পানি ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে আসে । তারপরে সেই দেশের বিভিন্ন কোম্পানি

Tier 1 কোম্পানির কাছ থেকে তারা ইন্টারনেট সংযোগ নেয় এবং বিভিন্ন শহর পর্যন্ত ক্যাবলের মাধ্যমে তারা নিয়ে যায় ইন্টারনেট সংযোগ । তাদেরকে বলা হয় Tier 2 কম্পানি । তারা এই ইন্টারনেট সংযোগ নেয়ার জন্য Tier 1 কোম্পানি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেয় । বাংলাদেশ Tier 2 কোম্পানিগুলোর নাম হল , গ্রামীন , বাংলালিংক , টেলিটক ইত্যাদি ।

Tier 3 

এলাকা ভিত্তিক কিছু internet service provider  কোম্পানি রয়েছে যাদের বলা হয় Tier 3  কম্পানি । এরা এলাকা ভিত্তিক ইন্টারনেট সার্ভিস সর্বস্তরের জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয় ।

ইন্টারনেটের মালিক কে

প্রকৃতপক্ষে ইন্টারনেটের কোন মালিক নেই ‌। বিভিন্ন কোম্পানি তাদের নিজেদের টাকায় সমুদ্রের মধ্য দিয়ে অপটিক্যাল ফাইবার সাবমেরিন কেবল বিছিয়ে বিশ্বকে ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে একত্রিত করে । কিভাবে পুরো পৃথিবীতে ইন্টারনেট কাজ করে ।

ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য কেন খরচ দিতে হয়

ইন্টারনেটের জ্যোতি মালিকি না থাকে তাহলে টাকা আমরা কাকে দেই ? ইন্টারনেটের কোন মালিক নেই আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য যে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে থাকি । সেই টাকার মাধ্যমে সাবমেরিন ক্যাবল অপটিক্যাল ফাইবার কে রক্ষণাবেক্ষণ করার কাজে ব্যয় হয়।

ইতিহাস

1950 সালে কম্পিউটার বিজ্ঞান অধ্যাপক লিওনার্ড ক্রাইনার্ক তার নিজস্ব গবেষণাগার থেকে কিছু তথ্য অন্য আরেকটি স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউশন সেন্টারে পাঠায় । এই ডাটা পাঠানোর জন্য তিনি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন অর্পানেট নামক এক নতুন নেটওয়ার্কিং সিস্টেমের মাধ্যমে।

এই বার্তাটি ছিল ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠানো প্রথম তথ্য ।

1960 দশকের মার্কিন সামরিক বাহিনীর গবেষণা সংস্থা “অ্যাডভান্স রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সি” পরীক্ষামূলক ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিদ্যালয় এবং গবেষণাগার এর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলে । পকেট সুইচিং পদ্ধতির তৈরি করা এই নেটওয়ার্কের নাম দেওয়া হয়েছিল আরপানেট ।

1989 সালে ইন্টারনেট পরিষেবা আইএসপি দ্বারা সবার জন্য ব্যবহার করতে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল । 1990 সালে পশ্চিমা বিশ্বে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হতে থাকে । তারপর থেকে আস্তে আস্তে সারা বিশ্বে ইন্টারনেট ছড়িয়ে পড়ে এবং জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

ইন্টারনেট সংযোগ এর সাথে যুক্ত হতে হলে কি কি প্রয়োজন

ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারা বিশ্বের সাথে যুক্ত হয় বিভিন্ন কাজ করার জন্য আমাদের তিনটি ডিভাইসের প্রয়োজন হয় ।

প্রথম ডিভাইস

ইন্টারনেটে কাজ করার জন্য আমাদের সবারই  কোন না কোন ডিভাইসের প্রয়োজন হয় যেমন স্মার্টফোন, ডেক্সটপ বা ল্যাপটপ , কম্পিউটার । এগুলোর মধ্যে যেকোনো একটা আমাদের ব্যবহার করতে হবে ইন্টারনেট চালানোর জন্য।

দ্বিতীয় ISP

আমাদের ডিভাইসে সাথে সংযুক্ত করে গ্লোবাল নেটওয়ার্ক এর বিশাল জালের সাথে সংযুক্ত হতে হবে ।  এর জন্য আমাদের প্রয়োজন হবে , internet service provider বা ISP । এর মাধ্যমে আমরা ইন্টারনেট সার্ভিস গ্রহণ করতে পারি।

ISP কোম্পানিগুলো ইন্টারনেট পরিষেবা কিনে সেগুলো ক্যাবলের মাধ্যমে তাদের সার্ভার রুম পর্যন্ত আনে । তারপর সেই ইন্টারনেট সংযোগ বেতার তরঙ্গের  বা তারের মাধ্যমে আমাদের সবার কাছে পৌঁছে দেয় । এর জন্য আমাদের নির্দিষ্ট কিছু টাকা তাদের দিতে হয়।

তৃতীয় ওয়েব ব্রাউজার

আমাদের ডিভাইসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাজ বা ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য ওয়েব ব্রাউজার বা অ্যাপ্লিকেশন এর প্রয়োজন হয় ।

ওয়েব ব্রাউজার এমন একটি সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে আমরা ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আমরা সারা বিশ্বের সাথে তথ্য আদান প্রদান করতে বা নানা রকম কাজ করতে পারি ।

তারপর ডোমেইন বা আইপির মাধ্যমে গ্লোবাল নেটওয়ার্কে কানেক্ট হয়ে তথ্য বা ডকুমেন্ট আদান-প্রদান করতে পারি ।

ইন্টারনেটের সুবিধাঃ ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা যে যে কাজ করি বা সুবিধা পেয়ে থাকি তা বলে শেষ করা যায় না । ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সকল কাজ করে থাকি।

  • সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে কানেক্ট হয়ে সকলের সাথে যোগাযোগ করতে পারি।
  • শিক্ষা ক্ষেত্রে বা বিনোদন সকল বিষয়ের শিখতে পারি।
  • যেকোনো তথ্য খুঁজতে পারি।
  • ঘরে বসে আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে ইনকাম করতে পারি।
  • অনলাইন শপিং করতে পারি।
  • বিভিন্ন সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারি।

অন্যান্য পোস্টসমূহঃ

error: Content is protected !!