Menu Close

কম্পিউটার(Computer):

কম্পিউটার হল এমন একটি যন্ত্র যা দিয়ে গাণিতিক গণনা সংক্রান্ত কাজ খুব দ্রুত করে । আমরা সবাই অত্যাধুনিক বিজ্ঞানের যুগে বসবাস করি । আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটার একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র । যার সাহায্যে আমরা নানা রকম কাজ কর্ম করে থাকি । আজকের এই আধুনিক কম্পিউটার একদিনে তার এই রূপ পায়নি । বিভিন্ন কাল সময় লেগেছে এই অত্যাধুনিক কম্পিউটার নির্মাণ করতে । যুগে যুগে শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আজকের এই আধুনিক কম্পিউটার নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে । আজকে আমরা কম্পিউটারের সাহায্যে নানারকম কাজকর্ম করে থাকে । কিন্তু অনেকেই জানিনা এই কম্পিউটার কোথা থেকে এলো এবং কিভাবে এলো । আজকের আর্টিকলে কম্পিউটার সম্পর্কে সমস্ত ইতিহাস জানার চেষ্টা করব ।

কম্পিউটার ভাষাটি গ্রিক ভাষার শব্দ “কম্পিউট” থেকে নেওয়া হয়েছে । এই শব্দের অর্থ হলো গণনা করা । কম্পিউটার শব্দের অর্থ হলো মূলত গণনাকারী যন্ত্র । কম্পিউটারের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য কে বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন করা যায় । বর্তমানের সভ্যতা দ্রুত অগ্রগতি পিছনে কম্পিউটারে মূল ।

১৯৬৪ সালে বাংলাদেশে প্রথম কম্পিউটার আসে ।

খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ সালের দিকে সর্বপ্রথম যন্ত্রের সাহায্যে গণনা করার কাজ শুরু করা হয়েছিল । তারপর থেকে নানা অগ্রগতির মাধ্যমে ধাপে ধাপে আজকের এই কম্পিউটার সৃষ্টি হয়েছে । শুরুর দিকে এর নাম ছিল “অ্যাবাকাস ” । সেই সময় এই যন্ত্রের মাধ্যমে শুধুমাত্র গণনায় করা হত । কম্পিউটার তৈরি হওয়ার প্রথম থেকে একে বিভিন্ন ধাপে ধাপে বিভিন্ন নাম দেওয়া হয়েছিল । যেগুলো হলো:

অ্যাবাকাস

প্যাসকেলের যান্ত্রিক গণনা

চার্লস ব্যাবেজ এর ডিফারেন্সিয়াল ইঞ্জিন

ইলেকট্রনিক নিউমেরিক ইন্টিগ্রেটর এন্ড ক্যালকুলেটর

কম্পিউটার বা ইউনির্ভাসাল অটোমেটিক কম্পিউটার

কম্পিউটার সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত ধাকে প্রজন্ম বলা হয় । এই প্রজন্মের ধাপ গুলো বিশ্লেষণ করলে কম্পিউটার কোথা থেকে এবং কিভাবে আবিষ্কৃত হলো সে সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানা যাবে ।

ইতিহাসঃ

প্রাচীনকালের মানুষজন তাদের বাস্তব জীবনে গণনাকাজ সম্পন্ন করার জন্য তারা পাথর, নুরি ব্যবহার করতেন । তখন থেকেই তারা গনণা কাজ সম্পন্ন করার জন্য মেশিন ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করতে শুরু করেন ।

তারপরে তারা সর্বপ্রথম গণনাকারী যন্ত্র হিসেবে অ্যাবাকাস তৈরি করা হয় । কম্পিউটার ইতিহাসে এটাই আধুনিক কম্পিউটার সৃষ্টির মূল ভিত্তি । এখান থেকে কম্পিউটারের অগ্রযাত্রা শুরু হয় । এটা চীনে সর্বপ্রথম আবিষ্কার করা হয় । খ্রিস্টপূর্ব ২৪০০ সালের দিকে প্রথম অ্যাবাকাস এর সাহায্যে গোল গোল চাকা ঘুরিয়ে গণনা কাজ সম্পন্ন করা হতো । এটাই ছিল আধুনিক কম্পিউটার এর প্রথম চিন্তার সূত্রপাত ।

১৬২৩ জার্মান গণিতবিদ ইউলহেম শিকার্ড প্রথম যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর এর বিকাশ ঘটে । এর সাহায্যে সাধারণ অংক করা যেত । এর সাহায্যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা জেনেটিক সমস্যা মোটামুটি ভাবে সমাধান করা যেত । এটি কম্পিউটার কে নির্দেশ করে কাজটি কিভাবে সম্পূর্ণ করতে হবে তারপর কম্পিউটার কাজটি সম্পাদন করে ।

তার বহু বছর পর । ১৬১৬ গণিতবিদ জন নেপিয়ার গণনার কাজে দাগ কাটা কাটি অথবা কাঠের ব্যবহার করেন । এইসব কাঠিগুলো অস্থি নামে পরিচিত ছিল । এর সাহায্যে গাণিতিক সমস্যার সমাধান করা হতো ।

১৬৪২ ফরাসি বিজ্ঞানী ব্লেইজ প্যাসকেল সর্বপ্রথম যান্ত্রিক কম্পিউটার আবিষ্কার করেন । তিনি দাঁত আকৃতির চাকার সাহায্যে যোগ বিয়োগ করার পদ্ধতি চালু করে । এর সাহায্যে যোগ বিয়োগ করা হতো ।

১৬৭১ সালে জার্মান গণিতবিদ জণ লিউইস প্যাসকেলের যন্ত্রটির সাহায্যে গুণ ভাগ করার পদ্ধতি চালু করেন । ফলে আরো উন্নত যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর তৈরি করেন । তখন এই যন্ত্রটির নাম দেওয়া হয় “রিকোনিং” যন্ত্র। এটির অনেকটা জটিল যন্ত্র ছিল । এরা কারো বর্তমান কম্পিউটারের চেয়ে অনেকগুণ বড় ছিল ।

১৮২০ সালে বিজ্ঞানী টমাস দি কোমার রিকোনিং যন্ত্রকে পরিমার্জিত করেন । ফলে রিকোনিং যন্ত্রটি আরো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ।এর সাহায্যে গাণিতিক সমস্যা সমাধান করার আগের চেয়ে অনেক ভালো এবং দূরত্ব গ্রাম্য ফলাফল প্রকাশ করত ।

তারও অনেক বছর পর উনিশ শতকের শুরুর দিকে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার এবং তৈরি ধারণা ব্যক্ত করেন চার্লস ব্যাবেজ । তখন ওই যন্ত্রটির নাম দেওয়া হয় ডিফারেন্স ইঞ্জিন । কিন্তু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে তিনি এই কাজটি সম্পূর্ণ করতে পারিনি ।

বিশ শতকের মধ্যে দিকে প্রথম আধুনিক কম্পিউটারের বিকাশ ঘটতে শুরু করে ।

১৯৪১ সালে জার্মান ইঞ্জিনিয়ার z3 নামে একটি কম্পিউটার আবিষ্কার করেন । সর্বপ্রথমেই কম্পিউটার প্রোগ্রাম দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যেত । এই কম্পিউটারের হাত ধরে আস্তে আস্তে ডিজিটালের কম্পিউটার এর ধারণা সবার মাথায় আসতে থাকে । তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে এক কম্পিউটার আস্তে আস্তে বিকাশ পেতে শুরু করে । তারপরে বিশ শতকে আধুনিক কম্পিউটার আবিষ্কার হতে থাকে ।

১৯৭১ সালে সর্বপ্রথম মাইক্রোপ্রসেসর উদ্বোধন করা হয় । যার ফলে এই মাইক্রো কম্পিউটার বাজারে দ্রুত বিকাশ হতে শুরু করে । ফলে ধীরে ধীরে কম্পিউটারের আরো পরিবর্তন হতে থাকে । সকল পাসপাতির দৈর্ঘ্য ছোট হতে থাকে । এরকমভাবে পার্সোনাল কম্পিউটার তৈরি করা হয় । একই সাথে বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম চালু করা হয় তৈরি করা হয় প্রোগ্রামিং এর ভাষা প্যাকেজ প্রোগ্রাম । কম্পিউটার এর শিক্ষাদানের জন্য সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার গবেষণা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ।

১৯৭১ সালে মাইক্রোপ্রসেসর উদ্বোবন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেল কর্পোরেশন । সেইসাথে কম্পিউটার এর আকৃতি এবং কর্মক্ষমতার বিস্তার ঘটতে থাকে ।

১৯৮১ সালে সর্বপ্রথম “আইবিএম” কোম্পানি সর্ব প্রথম উদ্ভাবন করেন পার্সোনাল কম্পিউটার বা পিসি । ধীরে ধীরে সেটা বাজারেও অনেক সাড়া ফেলে দেয় । কোনো রকম বাধা বিপত্তি ছাড়া থাকার জন্য এই কম্পিউটারের দাম কত কমতে পেতে শুরু করে , যার জন্য বাজারে কম্পিউটার আরো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে । এর ব্যবহারও ক্রমাগত বাড়তে থাকে ।

তারপরে “অ্যাপেল কম্পিউটার কর্পোরেট” অ্যাপেল ম্যাকিনটোন ” নামে এক নতুন কম্পিউটার বাজারে নিয়ে এসেছিল । কিন্তু তারা এই কম্পিউটারের দাম শতাধিক বেশি ধার্য করেন । তার জন্য এটি বাজারে তেমন ভাবে জনপ্রিয়তা পায়নি । কিন্তু এর কার্য ক্ষমতার জন্য মুদ্রণশিল্পে অ্যাপেল ম্যাকিনটোন ব্যবহার করা হতো ।

কম্পিউটার সিস্টেমের মূল উপাদানঃ

কম্পিউটারের মূল সিস্টেম এর উপাদান গুলো হল

  • হার্ডওয়ার
  • সফটওয়্যার
  • হিউম্যানওয়্যার
  • ডাটা

হার্ডওয়ারঃ

কম্পিউটারের বেসিক সকল যন্ত্র এবং যন্ত্রাংশকে হার্ডওয়ার বলা হয়ে থাকে । কম্পিউটারের হার্ডওয়ার কে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে । এগুলো হলো ইনপুট, আউটপুট, সিস্টেম ইউনিট।

ইনপুটঃ কম্পিউটার এর বাহ্যিক অংশের সাথে সংযুক্ত সকল যন্ত্রকে ইনপুট বলা হয়ে থাকে । এগুলোর সাহায্যে কম্পিউটার কে কন্ট্রোল বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে । এগুলো হলো কিবোর্ড, মাউস, ডিক্স, ক্যামেরা, কার্ড রিডার বা পেনড্রাইভ, ইত্যাদি ।

আউটপুটঃ কম্পিউটারের আকৃতিক আলাদা আলাদা যন্ত্রাকে বলা হয়ে থাকে আউটপুট বলা হয়ে থাকে । এগুলো সাহায্যে মূলত কম্পিউটার তাদের কাজ করতে সম্পূর্ণ হয় । এগুলো হলো মনিটর, প্রিন্টার, স্পিকার, প্রজেক্টর, ইত্যাদি ।

সিস্টেম ইউনিটঃ হার্ডডিক্স, মাদারবোর্ড, র্যাম, ইত্যাদি ।

সফটওয়্যারঃ

সমস্যা সমাধান বা কাজ সম্পাদন করার জন্য কম্পিউটারের ভাষায় নির্দৃষ্ট নীতিমালাকে প্রোগ্রাম বলে । প্রোগ্রাম বা প্রোগ্রাম সমষ্টি হার্ডওয়ার কে কর্মক্ষম করে তাকে সফটওয়্যার বলা হয় । কম্পিউটারের সফটওয়্যার প্রধানত দুই ভাগ,

  • সিস্টেম সফটওয়্যার
  • এপ্লিকেশন সফটওয়্যার

সিস্টেম সফটওয়্যারঃ সিস্টেম সফটওয়্যার এর মাধ্যমে কম্পিউটারের বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলে । কম্পিউটারের সামর্থ্য নে সব সময় নিয়োজিত থাকে ।

এপ্লিকেশন সফটওয়্যারঃ ব্যবহারিক সমস্যা সমাধানের প্রোগ্রামকে কম্পিউটার এপ্লিকেশন সফটওয়্যার বলা হয় । একে সাধারণত প্যাকেজ বলা হয় ।

হিউম্যানওয়্যারঃ

  • ডাটা সংরক্ষণ
  • ডাটা পরীক্ষাকরন
  • প্রোগ্রামিং
  • সিস্টেম ডিজাইন
  • রেকর্ডিং এবং সংরক্ষণ
  • হার্ডওয়ার এবং সফটওয়্যার মধ্যে সমর্থন করে কার্য সম্পাদন

ইত্যাদি কাজে যেখানে মানুষ নিয়োজিত থাকে তাকে হিউম্যানওয়্যার বলা হয় ।

ডাটাঃ

ইনফরমেশন এর ক্ষুদ্রতম একত্রে ডাটা বলা হয় । ডাটা সাধারণত দুই প্রকার

  • নিউমেরিক
  • অ-নিউমেরিক

সংখ্যাবাচক ডেটাকে নিউমেরিক যেটা বলা হয়ে থাকে যেমন ২৫,৫৭,৭৮০০ ইত্যাদি ।

মানুষ ,দেশের নাম, জিবিকা জাতীয় ছবি ইত্যাদিতে ডাটা নিউমেরিক বাটা বলা হয় ।

অপারেটিং সিস্টেমঃ

অপারেটিং সিস্টেম এমন একটি সফটওয়্যার যেটা কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ইনপুট-আউটপুট দেওয়া নেওয়া , সকল কাজের ম্যানেজমেন্ট সহ ইত্যাদি ধরনের কাজ করে থাকে । বর্তমানে সর্ব ব্যবহারিক কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেমগুলোর নাম হল,

  • ডস
  • উইন্ডোজ 7
  • উইন্ডোস 8
  • উইন্ডোজ 8.2
  • উইন্ডোজ টেন
  • ইউনিক্স
  • মিন্ট
  • লিনাক্স

কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশঃ

কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ চিত্রের মাধ্যমে দেখান হল-

কম্পিউটার যন্ত্রাংশ Computer Diagram
Computer Diagram

 

কম্পিউটারের প্রয়োগঃ

কম্পিউটারকে আমরা আমাদের দৈনন্দিন কাজে বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করি । ঘরের কাজ থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ ,অফিস-আদালত ,বিজ্ঞানী কাজকর্ম ইত্যাদি কাজে আমরা কম্পিউটারকে ব্যবহার করে থাকি । চিকিৎসা এবং মানব কল্যাণে এর ভূমিকা অপরিসীম ।এক কথায় বলতে গেলে কম্পিউটার এমনি একটি যন্ত্র যার সাহায্যে প্রায় সকল কাজের সমাধান করা যায় ।

কম্পিউটারের প্রকারভেদঃ

কম্পিউটার এর গঠন এবং এদের কাজ ও ক্ষমতার উপর এদের তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে । এগুলো হলো,

  • এনালগ কম্পিউটার
  • ডিজিটাল কম্পিউটার
  • হাইব্রিড কম্পিউটার

দাম এবং ব্যবহার এর ভিত্তিতে ডিজিটাল কম্পিউটার কে আবার চার ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে ।

  • মাইক্রো কম্পিউটার
  • মিনি কম্পিউটার
  • মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  • সুপার কম্পিউটার

সাধারণত মাইক্রো কম্পিউটার কে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে ,

  • ডেক্সটপ
  • ল্যাপটপ

এনালগ কম্পিউটারঃ এনালগ কম্পিউটার সাধারণভাবে একটা রাশিকে অন্য একটা রাশির উপর ভিত্তি করে এর পরিমাপ নির্ণয় করতে পারে । বাস্তব জীবনে মোটরসাইকেলের সাথে যে ইসপিরিট মিটার টা থাকে সেটা এনালগ কম্পিউটার এর একটি অংশ ।

ডিজিটাল কম্পিউটারঃ এটা সাধারণত বিদ্যুতিক ভোল্টেজ ব্যবহার করে সকল কিছু পরিমাপ করতে পারে । এটি গাণিতিক সমস্যা যেমন যোগ বিয়োগ ভাগ করতে সক্ষম । সকল আধুনিক কম্পিউটারের ডিজিটাল কম্পিউটারের আওতার মধ্যে পড়ে ।

হাইব্রিড কম্পিউটারঃ ডিজিটাল কম্পিউটার এবং এনালগ কম্পিউটার এর সমন্বয়ে গঠিত কম্পিউটার কি হাইব্রিড কম্পিউটার বলা হয়ে থাকে । এটি সাধারণত বিজ্ঞানী গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে । এনালগ কম্পিউটার এবং ডিজিটাল কম্পিউটারের আংশিক সম্বন্ধে এই কম্পিউটার গঠন করা হয়ে থাকে । এনালগ কম্পিউটার এর সাহায্যে এটা তথ্য সংরক্ষণ করে এবং ডিজিটাল কম্পিউটারের সাহায্যে এটা তথ্য বিশ্লেষণ করে । এটা সাধারণত আবহাওয়া অধিদপ্তরের ব্যবহার করা হয় এটার মাধ্যমে তারা বায়ুতে বাতাসের চাপ এবং তাপমাত্রা ইত্যাদির মাধ্যমে গ্রহণ করে ডিজিটাল কম্পিউটারের মাধ্যমে সেটা বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া বার্তা করে থাকে ।

মেইনফ্রেম কম্পিউটারঃ এটি সাধারনত বড় বড় অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করার জন্য তৈরি করা হয়েছে । যেমন জনসংখ্যা বিষয়ক তথ্য, পরিসংখ্যান, লেনদেনের প্রক্রিয়াজাতকরণ ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করা হয় ।

মিনি কম্পিউটারঃ সাধারণত যে কম্পিউটার একটি আরেকটির সাথে যুক্ত হয় প্রায় শতাধিক কম্পিউটার একত্রিত হয়ে কার্য সম্পাদন করতে পারে তাকে মিনি কম্পিউটার বলা হয়ে থাকে । এটি বিভিন্ন গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হয় ।

মাইক্রো কম্পিউটারঃ এটি সঙ্গে আমরা প্রায় সবাই পরিচিত এটিকে পার্সোনাল কম্পিউটার সাধারণভাবে পিসি বলা হয়ে থাকে । এটা আমাদের দৈনিন্দ প্রায় সকল কাজই এটাকে আমরা ব্যবহার করে থাকি।

সুপার কম্পিউটারঃ সুপারকম্পিউটার বলা হয় যে কম্পিউটার এর কার্যক্ষমতা অনেক বেশি এবং দ্রুত সম্পন্ন কম্পিউটারকে । এর মাধ্যমে কোন দেশের আদমশুমারির মতো বড়-বড় কার্যসম্পাদন আয় এবং তাদের সকলের স্মৃতি সংরক্ষণ করার মত সামর্থ্য নেই কম্পিউটারে আছে ।

 

কম্পিউটারের সমস্যাঃ

ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করলে সেটি কখনো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করেনি এমন অভিজ্ঞতা পৃথিবীতে স্বল্প সংখ্যক মানুষের কাছে হয়তো বা হতে পারে। এই সকল সমস্যার মধ্যে কিছু কিছু সমস্যা সাধারণ আবার কিছু কিছু সমস্যা জটিল। সাধারণ সমস্যাগুলো আমরা নিজেরাই ঠিক করতে পারে কিন্তু জটিল সমস্যাগুলোর সমাধান করার জন্য অভিজ্ঞ লোকের প্রয়োজন হয়। কম্পিউটার বা আইসিটি যন্ত্রগুলো এর ব্যতিক্রম না। অন্য যেকোনো একটি যন্ত্র এর তুলনায় কম্পিউটার সাধারণত একটু বেশি সমস্যা দেয় আমাদের দৈনন্দিন জীবনে । এর সম্ভবত কারণ হতে পারে আমরা এই ডিভাইসটি বেশিক্ষণ একনাগাড়ে ব্যবহার করি। এ সকল সাধারণ সমস্যা আমরা যদি ঠিক করতে না পারি অভিজ্ঞ কারো কাছে নিয়ে গেলে তারা একটা অংশও টাকা দাবি করবে আপনার কম্পিউটারও সচল করে দিতে। কিন্তু কম্পিউটারের সাধারণ কিছু সমস্যা আমরা নিজেরাই বাড়িতে থেকে ঠিক করতে পারে। এগুলো নিয়ে আজকে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব এবং কম্পিউটারের সাধারণ সমস্যা এবং সেগুলোর সমাধান এর নিয়ম জানবো।

 

সমস্যা : সিস্টেম চালু হচ্ছে না

সমাধান:

মেইন পাওয়ার কেবল এর সংযোগটি দিলে বা আগলা আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখতে হবে।

মেইনবোর্ডে পাওয়ার সাপ্লাই আসছে কিনা সেটা দেখতে হবে।

আর যদি মেইনবোর্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকে তাহলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ইউনিট পরিবর্তন করতে হবে। এবং স্থানীয় কোন সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে গিয়ে অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে এটা লাগিয়ে নিতে হবে।

 

সমস্যা: সিস্টেম সঠিক ভাবে চালু হচ্ছে কিন্তু মনিটরে কিছু দেখা যাচ্ছে না।

সমাধান:

সিস্টেমটি বন্ধ করে ওমেন সিস্টেম থেকে পাওয়ার কেবল টি সতর্কতার সাথে খুলে ফেলতে হবে।

মেমোরির স্থান থেকে সকল রাম সরিয়ে ফেলতে হবে।

একটি ট্রেইনার ব্রাশ দিয়ে রেন্ডিকে সুন্দরভাবে পরিষ্কার করতে হবে

রম ইন্সটল না করে কম্পিউটারটি পুনরায় চালু করলে যদি কোন বিব সাউন্ড হয় কিনা সেটা খেয়াল করতে হবে।

যদি বিব সাউন্ড হয় তাহলে কম্পিউটারটি বন্ধ করে জ্যাম ইন্সটল করে কম্পিউটারটি পুনরায় চালু করতে হবে।

যদি বিব সাউন্ড না হয় তাহলে র্যাম সমস্যাযুক্ত।

এবারও ডিসপ্লেতে আলো না আসলে নতুন র্যাম কিনতে হবে।

 

সমস্যা: সিস্টেম খুব বেশি গরম হয়ে যায় এবং হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।

সমাধান:

সর্বপ্রথম কেচিং কি খুলতে হবে

মাদারবোর্ড থেকে সাবধানে প্রসেসর ফ্যানটি সরাতে হবে।

ফ্যানের জায়গায় যদি ধুলাবালি থাকে তাহলে সেগুলো পরিষ্কার করতে হবে

হার্ডডিক্স এর ফ্যানটি ভালোভাবে পরিষ্কার করে আবার পুনরায় ভালোভাবে বসাতে হবে।

এতেও যদি সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে স্থানীয় কোন অভিজ্ঞ লোকের হাতে সার্ভিসিং করাতে হবে।

সমস্যা: কিবোর্ড কাজ করছে না।

সমাধান:

কম্পিউটারের সাথে কিবোর্ডের পোর্টের সাথে যথাযথ সংযোগ আছে কিনা সেই বিষয়টি ভালোভাবে দেখতে হবে।

জ্যোতিষ সংযোগ রিলে কেন্দ্র লুষ্ট থাকে তাহলে ভালোভাবে লাগিয়ে পুনরায় কম্পিউটার অন করতে হবে।

এন্টি ভাইরাস দ্বারা ভাইরাস ক্লিন করে দেখতে হবে

এরপরও যদি উপরোক্ত সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে নতুন কিবোর্ড কিনতে হবে।

 

সমস্যা: কম্পিউটার বারবার হ্যাং করে বা রিস্টার্ট হয়।

সমাধান:

কম্পিউটারের সিপিইউ এর উপর সংযুক্ত কুলিং ফ্যানেটি না ঘুরলে কিংবা পর্যাপ্ত ঠান্ডা করতে না পারলে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে।

কম্পিউটারের ভাইরাস থাকলেও এ ধরনের সমস্যা হতে পারে তাই আপডেট এন্টিভাইরাস ছাড়া কম্পিউটারে হার্ডডিস্ক ড্রাইভের প্রতিদিন করে নিতে হবে এছাড়া অনেক সময় নতুন সফটওয়্যার আপলোড করার কারণে এই ধরনের সমস্যা হতে পারে।

 

কম্পিউটার যেহেতু একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস তাই এর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমস্যা হতেই পারে। যদি ভালোভাবে কম্পিউটারের যত্ন এবং ভালভাবে পরিষ্কার করা হলে তাহলে উপরোক্ত সমস্যার সম্ভাবনা কমে যায়।

তথ্যসূত্রঃ

১। যুগান্তর

অন্যান্য পোস্টসমূহঃ

error: Content is protected !!