Menu Close

পৃথিবীঃ

পৃথিবী (ইংরেজিঃ earth) সূর্য থেকে দূরত্ব অনুযায়ী তৃতীয় তম । সৌরজগৎ এর আটটি গ্রহের মধ্যে এটি পঞ্চম বৃহত্তম গ্রহ। সর্বাপেক্ষা অধিক ঘনত্ব যুক্ত এবং সৌরজগতের চারটি কঠিন গ্রহণের অন্যতম। সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। পৃথিবীর অপর নাম “বিশ্ব” বা “নীল গ্রহ”।
পৃথিবীতে মানুষ সহ  কোটি কোটি প্রজাতি এবং প্রাণীর বসবাস। পৃথিবী একমাত্র মহাজাগতিক স্থান যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব আছে। ৪৫৪ কোটি বছর আগে এই পৃথিবীর সৃষ্টি। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন ১ বিলিয়ন বছরের মধ্যে পৃথিবীতে প্রাণের আবির্ভাব হয়। ধারণা করা হয় আরো প্রায় ৫০ কোটি বছর পৃথিবীতে প্রাণ ধারণের সহায়ক অবস্থায় থাকবে।

পৃথিবীর উপরি তল একাধিক শক্ত স্তরে গঠিত । এগুলোকে বলা হয় ভূত্বকীয় পাত। কোটি কোটি বছর ধরে এগুলো পৃথিবীর উপরিতলের জমা হয়েছে । পৃথিবীর উপরিতলে প্রায় ৭১% লবণাক্ত জলের মহাসাগর রয়েছে।

সূর্য এবং চাঁদ এর সঙ্গে এই গ্রহের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পৃথিবী নিজ অক্ষে প্রায় ৩৬৫.২৬ সৌর দিনে একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে । পৃথিবী নিজ অক্ষের প্রায় ৬৬.১/২° কোণে হেলে রয়েছে। এর ফলে ১ সৌর বছরে বিভিন্ন ঋতু পরিবর্তন হয়ে থাকে । পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহের নাম হল চাঁদ । ৪.৩৫ বিলিয়ন বছর আগে চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করা শুরু করে । আর এই চাঁদের গতির ফলে পৃথিবীতে জোয়ার ভাটা সৃষ্টি হয় । চাঁদের গতি পৃথিবীর গতি কে  ধীরে ধীরে কমিয়ে এনেছে।
পৃথিবীর বুকে বিদ্যমান খনিজ সম্পদ এবং জৈব সম্পদ মানবজাতির জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য । এই গ্রহে বসবাস করা মানুষরা প্রায় ২০০ টি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের সৃষ্টি করেছেন।
নাম

পৃথিবী শব্দটি সংস্কৃত। এর সমার্থক শব্দ গুলো হল বসুন্ধরা ধর ,ধরণী, দুনিয়া ইত্যাদি ।

পৃথিবীর উৎপত্তিঃ

সৌরজগৎ সৃষ্টির প্রায় ১০০ মিলিয়ন বছর পর পৃথিবীর সৃষ্টি হয়। আজ থেকে প্রায় ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর আগে এই গ্রহটি আকৃতি পায়। তৈরি হয় বায়ুমণ্ডল। প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সঙ্গে অন্য একটি গ্রহের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষেটা এত তীব্র ছিল যে গ্রহ দুইটি একসাথে জুড়ে যায়। পৃথিবীর সংঘের যে গ্রহটি সংঘর্ষ হয় সেই গ্রহটির নাম ছিল “থিয়া”। থিয়া গ্রহটির তখনও গ্রহে পরিণত হয়নি যখন সংঘর্ষ হয়েছিল।যখন সংঘর্ষটি হয়েছিল তখন পৃথিবীর বয়স ছিল ১০ কোটি বছর। থিয়া আর পৃথিবী এক সঙ্গে জুড়ে যায়। সৃষ্টি হয় নতুন গ্রহ। আর এই গ্রহ তেই আমরা বর্তমানে বসবাস করছি।  এই সময় চাঁদের সৃষ্টি হয়। চাঁদের পাথর আর পৃথিবীর পাথর এর অক্সিজেনের আইসোটোপ একই।
সৌরজগতে অবস্থিত সবথেকে পুরনো পদার্থের বয়স ৪.৫৬ শত কোটি বছর। পৃথিবীর আদিম রোগটি সৃষ্টি হয় প্রায় ৪.৫৪ কোটি বছর আগে। তখন সূর্যের চারি পাশের গ্রহ উপগ্রহ এবং নক্ষত্র গুলো তখন বিবর্তন ঘটাতে থাকে। আদিম পৃথিবী তৈরি করতে সময় লেগেছিল প্রায় ১ থেকে ২ কোটি বছর।

চাঁদ নিয়ে এখনো গবেষণা চালাচ্ছে বিজ্ঞানীরা। তবে ধারণা করা হয় যে চাঁদ সৃষ্টি হয়েছিল ৪.৫৩ বিলিয়ন বছর আগে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন পৃথিবীর সঙ্গে যখন থিয়া গ্রহের সংঘর্ষ হয় তখনই চাঁদ সৃষ্টি হয় । থিয়া গ্রহটির ভর ছিল আমাদের এই পৃথিবীর ভরের তুলনায় ১০%। কয়েকশো বিলিয়ন কোটি বছর আগে পুরনো ধাক্কার ফলে পৃথিবীর সাথে থিয়া গ্রহের ভর মিলিত হয় বিলিন হয়ে যায়। পৃথিবীর উপস্থিতির কারণে চাঁদের পৃষ্ঠতলের অনেক পরিবর্তন হয়।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এবং সাগর সমূহ সৃষ্টি হয়েছে আগ্নেয়গিরির জলীয় বাষ্প সমৃদ্ধ গ্যাসের অতি নির্গমন এর ফলে । গ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ,  ধূমকেতু থেকে আসা ঘনীভূত জল এবং বরফের সম্মিলনে পৃথিবীর সাগর উপসাগরে জলের সৃষ্টি হয় । সূর্য এবং বায়ুমণ্ডলীয় গ্রীন হাউজ গ্যাস এর জন্য সাগরের জল বরফ হওয়া থেকে বিরত থাকে  । পৃথিবীতে চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয় প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন বছর আগে । এর জন্যই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল পৃথিবী থেকে দূরে সরে বা উড়ে যায় না।

পৃথিবীর বাইরের আবরণ সৃষ্টি

পৃথিবীর বাইরের আবরণ শক্ত হয়েছে যখন পৃথিবীর কেন্দ্রে অত্যাধিক উত্তপ্ত আগ্নেয়গিরি লাভা উপরে এসে ঠান্ডা হয়েছে এর ফলে এই শক্ত আবরণ সৃষ্টি হয়েছে । পৃথিবীর ভূমি বর্তমান অবস্থায় কিভাবে এসেছে এর দুটি মডেল আছে । একটি হলো, ভূমি ধীরে ধীরে বর্তমান অবস্থায় এসেছে । অপরটি হল পৃথিবী শুরুর সময় দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে এবং পরে মহাদেশীয় অঞ্চল সৃষ্টি হয়েছে । সেই সময় পৃথিবীর তাপ দ্রুততম সময়ের মধ্যে কমতে  শুরু করে । যার ফলে ভূত্বকীয় পাত সৃষ্টি হয় । ভূত্বকীয় পাত শত কোটি বছর ধরে চলতে থাকে । যার ফলে সকল মহাদেশ একত্রিত হয়ে যায় । তারপর আবার তা ভেঙ্গে আলাদা হয়ে যায় । পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো মহাদেশের নাম হল রোডিনিয়া । এই পুরনো মহাদেশটি আবার ভাঙতে শুরু করে প্রায় ৭৫ কোটি বছর আগে । প্রায় ৬০ কোটি বছর আগে এই মহাদেশটির পুনরায় আবার গঠিত হয়ে যায় । প্রায় ১৮ কোটি বছর আগে আবার এই মহাদেশটি ভেঙে আলাদা হয়ে যায়।

বরফ যুগঃ

চার কোটি বছর আগে বরফ যুগের বর্তমান রুপ শুরু হয় । প্লাইস্টোসিন ৩০ লক্ষ বছর পূর্বে ঘনীভূত হতে শুরু করে । প্রায় একশ হাজার বছর পূর্বে বরফ গলতে শুরু করে । যার জন্য উচ্চ অঞ্চলের উচ্চতা কমতে শুরু করে । প্রায় ১০ হাজার বছর পূর্বে পৃথিবীর মহাদেশীয় বরফ গলে শেষ হয়ে যায় ।

পৃথিবীর আকৃতিঃ

পৃথিবী দেখতে পুরোপুরি গোলাকার নয় এর আকৃতি কিছুটা কমলালেবুর মতো । উপরে এবং নিচের দিকে কিছুটা সরু এবং মধ্যভাগে নিচের তুলনায় কিছুটা চ্যাপ্টা । এই চ্যাপ্টা ভাব তৈরি হয়েছে নিজের কে কেন্দ্র করে ঘুরতে  ঘুরতে । এর জন্যই বিষুব অঞ্চলের ব্যাস মরু অঞ্চলের ব্যাসের তুলনায় বেশি । পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে সর্বোচ্চ দীর্ঘতম স্থান টির নাম হল চিম্বরাজো আগ্নেয়গিরি।

পৃথিবীর ভর এবং ভূপৃষ্ঠের রাসায়নিক গঠন

পৃথিবীর মোট ভর হলো  ৫৯৭০ ইয়াটোগ্রাম । পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠর যে পদার্থ দিয়ে তৈরি সেগুলো হলো

  • লোহা ৩২.১%
  • অক্সিজেন ৩০.১% 
  • সিলিকন ১৫.১% 
  • ম্যাগনেসিয়াম ১৩.৯%
  • সালফার ২.৯%
  • নিকেল ১.৮% 
  • ক্যালসিয়াম ১.৫%
  • অ্যালুমিনিয়াম ১.৪%
  • বাকি ১.২% অন্যান্য উপাদান দিয়ে গঠিত 

পৃথিবীর কেন্দ্রে যে পদার্থ দিয়ে তৈরি সেগুলো হলো

  • লোহা ৮৮.৮%
  • নিকেল ৫.৮% 
  • সালফার ৪.৫% 
  • অন্যান্য পদার্থের পরিমাণ ১% এরো কম

পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ কাঠামো

পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ কাঠামো অন্যান্য গ্রহের মতই ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানের গঠিত । আর এই স্তর গুলো গঠিত হয় রাসায়নিক এবং হত বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে । সবচেয়ে বাইরের স্তর কে সিলিকেট ভূত্বক নামে পরিচিত । এর নিচে আছে গুরুমন্ডল । গুরুমন্ডল এর টেকটোনিক প্লেটগুলো সংকুচিত অবস্থায় থাকে ।

পৃথিবীর বাহ্যিক গঠন

পৃথিবীর শুরু থেকে এটি একটি উত্তপ্ত গ্যাসের পিন্ড দরকার আছিল । আস্তে আস্তে এটি শীতল এবং ঘনীভূত হতে থাকে । এইসময় ভারী উপাদানগুলো পৃথিবীর একদম কেন্দ্রে চলে যায় । আর হালকা উপাদান গুলো তাদের ওজন এর উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত হয়ে যায় ওপরে চলে আসে । আর এই একক স্তরে টক মন্ডল নামে পরিচিত । সবচেয়ে উপরে স্তরকে বলা হয়ে থাকে অশ্মমন্ডল স্তর ।  অশ্বমন্ডলের উপরে রয়েছে ভূত্বক । ভূত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে । ভূত্বকের ভূমিগুলো সমান নয় । আকৃতি এবং প্রকৃতির ও উচ্চতার উপর ভিত্তি করে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে । ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের ভূমি রয়েছে । কোথাও রয়েছে  পাহাড় পর্বত , কোথাও রয়েছে মালভূমি এবং রয়েছে সমতল ভূমি । ভৌগলিক দিক থেকে বিবেচনা করে ভূপৃষ্ঠের সমস্ত ভূমি কে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয় । এগুলো হলো,

  • পর্বত
  • মালভূমি
  • সমভূমি 

পর্বত

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০০০ মিটার এর উঁচু সুবিস্তৃত এবং খাড়া ঢাল বিস্তৃত শিলা স্তুপকে পর্বত বলা হয় । আর ৬০০ মিটার থেকে ১০০০ মিটার পর্যন্ত উঁচু এবং স্বরবৃত্ত খাড়া সিঁড়ি স্তুপকে পাহাড় বলা হয় । সাধারণত পর্বতের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে । পর্বতগুলো প্রাকৃতিক ভাবে খাড়া ঢাল বিশিষ্ট এবং চূড়া বিশিষ্ট হয়ে থাকে । এছাড়া হিমবাহ পর্বত গুলো অনেক এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হয়ে থাকে ।
মালভূমি

পর্বত বা পাহাড়ের চেয়ে উচু কিন্তু সমতল ভূমি ভূমি থেকে খাড়া ঢাল বিশিষ্ট সমতল ভূমি এবং চূড়া বিশিষ্ট ভূমিকে মালভূমি বলা হয়ে থাকে । তবে মালভূমির উচ্চতা শত শত কিলোমিটার থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে । পৃথিবীর সর্বোচ্চ মালভূমির উচ্চতা হলো ৫১৯০ মিটার ।

সমভূমি

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচু এবং স্বল্প ঢাল বিশিষ্ট বিস্তার সমতল ভূমিকে সমভূমি বলা হয়ে থাকে । এইসব ভূমিতে কৃষিকাজ বস স্থান রাস্তাঘাট ইত্যাদি তৈরীর জন্য আদর্শ । আর এইসব সুযোগ সুবিধার জন্যই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি জনগোষ্ঠীর বসবাসের স্থান হয়ে উঠেছে ।

পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপ 

পৃথিবীতে অভ্যন্তরীণ তাপ আছে । এই তাপ এর উৎপত্তি হয়েছে গ্রহের পরী বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট তাপের অশিষ্ট অংশ এবং তেজস্ক্রিয়তার ফলে সৃষ্ট তাপের সংমিশ্রণ । এখানে

  • পরীবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট তাপ ২০%
  • তেজস্ক্রিয় ফলে সৃষ্ট তাপ ৮০%

পৃথিবীতে অবস্থানকারী সবচেয়ে বেশিউৎপাদনকারী আইসোটোপের নাম নিচে উল্লেখ করা হলো

  • পটাশিয়াম – ৪০
  • ইউরোনিয়াম – ২৩৮
  • থোরিয়াম – ২৩২

পৃথিবীর একদম কেন্দ্রের তাপমাত্রা প্রায় ৬০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর বেশিও হতে পারে । যেহেতু পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপ  সৃষ্টির জন্য দায়ী তেজস্ক্রিয়তা । তাই বিজ্ঞানীরা বলেন যে তেজস্ক্রিয়তার অর্ধায়ু হওয়ার পূর্বে পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপ বেশি ছিল । তখন পৃথিবীর তাপ বর্তমান তাপের তুলনায় অনেক বেশি ছিল । তা ছিল প্রায় তিন বিলিয়ন বছর আগে । বর্তমান তাপের তুলনায় তখন প্রায় দ্বিগুণ তাপ উৎপন্ন হতো পৃথিবীর কেন্দ্রে।
ভূত্বকীয় পাতসমূহ

পৃথিবীর কাঠামোর বাইরের দিকের অনমনীয় অংশ বলা হয় লিথোস্ফিয়ার। এই লিথোস্ফিয়ার অনেকগুলো টুকরায় বিভক্ত হয়ে থাকে যেগুলো আবার নড়াচড়া করতে পারে। যেগুলোকে টেকটনিক পাত বলা হয়ে থাকে। এই টেকটনিক প্লেট গুলো তিন ধরনের সীমার মধ্যে যেকোনো এক ধরনের সীমার মধ্যে থাকে। এই তিন ধরনের সীমার নাম হল,

  • অভিসারীমুখী সীমা
  • বিমুখগামী সীমা
  • পরিবর্তক সীমা

দুটি টেকটনিক প্লেট যখন একটি অন্যটির বিপরীত অভিমুখে চলতে থাকে তখনই ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরি উৎপাত হয়।

পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠেঃ

পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের মোট আয়তন হল ৫১০ মিলিয়ন বর্গ মিটার। যার মধ্যে সত্তর দশমিক ৭০.৮ শতাংশ ভূমি সমুদ্র পৃষ্ঠের নিচে। এই অংশে সমুদ্রের পানি বিরাজমান। ভূপৃষ্ঠের রয়েছে পর্বত, মালভূমি, সমভূমি, মালভূমি এবং আরো অন্যান্য ভূমি। এগুলো সৃষ্টি হয়েছে বহু বছর আগে ভূমিকম্প আগ্নেয়গিরির উৎপাত বন্যা এবং উল্কাপাতের ফলে।

পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন হতে পারে। পৃথিবীর সর্বনিম্ন স্থান ৪১৮ মিটার যার অবস্থান মৃত সাগর। আর সর্বোচ্চ উচ্চতা হলো 8848 মিটার সেটা হল হিমালয় পর্বতের চূড়া। সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা ৮৪০ মিটার।

পৃথিবীতে প্রাণের আবির্ভাবঃ

বিজ্ঞানীরা ধারণা মতে , রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে প্রায় ৪০০ বছর পূর্বে পৃথিবীতে সর্বপ্রথম অনুর সৃষ্টি হয় ছিল। প্রায় ৫০ কোটি বছর পরে পৃথিবীতে সকল জীবের শেষ এক পূর্বপুরুষের সন্ধান মেলে।

সালোকসংশ্লেষণ বিবর্তনের ফলে সৌরশক্তি প্রত্যক্ষভাবে জীবের জীবন ধারণ এবং বংশ বিস্তারের সহায়তা করে। সালোকসংশ্লেষণের ফলে উৎপন্ন অক্সিজেন বায়ুমন্ডলে একীভূত হয়ে যায়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য বায়ুমন্ডলে রক্ষণ কারী ওজোন স্তর সৃষ্টি হয়।

বৃহৎ কোষের সঙ্গে ক্ষুদ্র কষে কর্তৃত্ব হয় একটা জটিল কোষের সৃষ্টি হয়। যাকে সুকেন্দ্রিক বলা হয়। কলোনির মধ্যে এই কোষগুলো বিশেষায়িত হতে শুরু করে। যার ফলে সৃষ্টি হয় বহু কোষীয় জীব। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ওজোন স্তর একে শোষিত করে যার ফলে জীব সমূহ একত্রিত হতে শুরু করে।

প্রায় ৭৫ কোটি বছর পূর্বে ধারণা করা হয় যে পৃথিবীর অধিকাংশ বরফে আবৃত ছিল। এর ফলে জটিলভাবে বহুকোষী জীব সৃষ্টি হতে শুরু করে। ঠিক তখনই ক্যামব্রিয়ান  বিস্ফোরণ হয়। এই বিস্ফোরণের পর প্রায় ৫৩৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে আরো পাঁচটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ হয়। যার ফলে ডাইনোসর এবং বড় বড় সরিসৃপ বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু ছোট প্রাণীর প্রাণীকুল বেঁচে যায়।
৬৬ মিলিয়ন বছর পূর্বে স্তন্যপায়ী প্রাণী জগতের প্রাণীদের মধ্যে ভিন্নতা দেখা দেয়। তারও কয়েক মিলিয়ন বছর পূর্বে আফ্রিকার বানর সাদৃশ্য প্রাণী সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা লাভ করে। কৃষি গত উন্নয়ন এবং সভ্যতার উন্নয়নের ফলে প্রকৃতি এবং পরিবেশের উপর মানুষের প্রভাব বাড়তে থাকে যা বর্তমান সময়ে এসে পৌঁছায়।

পৃথিবীর ভবিষ্যৎঃ

পৃথিবীর দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ সূর্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। আগামী ১.১ বিলিয়ন বছর পরে সূর্যের উজ্জ্বলতা বাড়াতে শুরু করবে। বর্তমান সূর্যের উজ্জ্বলতার চেয়ে ১০% উজ্জলতা বাড়াতে পারে। এই উজ্জ্বলতা আরো বেড়ে ৪০% বাড়বে আরও ৩.৫ মিলিয়ন বছর পরে। এই তাপমাত্রার ফলে প্রকৃতিতে ও জৈব কার্বন চক্রের উপর বাধা ফেলবে যার ফলে বায়ুতে এর ঘনত্ব কমতে শুরু করবেন যা উদ্ভিদের এর সংখ্যা কমতে শুরু করবে প্রায় ৫০০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন বছর পরে।

আর উদ্ভিদ না থাকলে বায়ুমন্ডলে অক্সিজেন থাকবে না যার ফলে পৃথিবীতে প্রাণী কোনমতে বাঁচতে পারবে না। তারও পরে কয়েক বিলিয়ন বছর পরে ভূপৃষ্ঠের উপর সকল পানি শুকিয়ে যাবে। এর ফলস্বরূপ পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা হবে ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ধারণা করা হয় আগামী ৫০০ মিলিয়ন বছর পর্যন্ত পৃথিবীকে বাসযোগ্য থাকবে। বার্ধক্য অবস্থা আরও ২.৩ বিলিয়ন বছর থাকবে যদি পৃথিবীর বায়ুতে নাইট্রোজেনের গ্যাস না থাকে।
সূর্যের আকার পরিবর্তন হয় এক রেড জায়ান্ট বা লোহিত দানবে পরিণত হবে আগামী ৫ বিলিয়ন বছর পরে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করে সূর্যের আকৃতি বৃদ্ধি পাবে প্রায় ১ এইউ বা পৃথিবীর পরিধির তুলনায় আরো ২৫০ গুণ বেশি ।
২০০৮ সালে বিজ্ঞানীরা একটি সিমুলেশন প্রকাশ করেন। যাতে বলা হয় “পৃথিবীতে জোয়ার ভাটার প্রভাব না থাকলে পৃথিবীর কক্ষপথ কমতে শুরু করবে। পরবর্তীতে সূর্য পৃথিবী কে তার নিজের ভিতর টেনে নিয়ে যাবে এবং পৃথিবী পরবর্তীতে বাষ্পীভূত হয়ে যাবে।”

অন্যান্য পোস্টসমূহঃ

error: Content is protected !!