Menu Close

বাংলাদেশঃ

বাংলাদেশ (Bangladesh) দক্ষিণ এশিয়ার একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র । এই দেশের সাংবিধানিক নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। 

এই দেশের পশ্চিম দিকের সীমান্তে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত । উত্তর দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় এবং পূর্বে ত্রিপুরা রাজ্য অবস্থিত। দক্ষিণ পূর্ব দিকের সীমান্তে মিয়ানমার এবং  দক্ষিণ দিকে বঙ্গোপসাগর। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ । এই দেশের বুকের উপর দিয়ে বয়ে গেছে 57 টি আন্তর্জাতিক নদী।‌ বাংলাদেশের রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট- সুন্দর সুন্দরবন এবং দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। 

 

সাংবিধানিক নামগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
রাজধনীঢাকা
জাতীয় ভাষাবাংলা
জনগোষ্ঠী৯৮% বাঙালী, ২% অন্যান্য
ধর্ম৯০.৪% ইসলাম, ৮.৫% হিন্দু, ০.৬% বৌদ্ধ, ০.৪% খ্রিস্টান, ০.১% আদিবাসী
বিজয় দিবস১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
আয়তন১,৪৮,৪৬০ বর্গ কি.মি.
জলভাগের আয়তন৬.৪%
জনসংখ্যা১৬ কোটি
মুদ্রার নামটাকা

বাংলাদেশ নামঃ বাংলাদেশ শব্দটি খুঁজে পাওয়া যায় বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে। কাজী নজরুল ইসলাম একটি কবিতায় উল্লেখ করেছিল , “নম নম নম বাংলাদেশ মম”। তাছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতায় বাংলাদেশ শব্দটি ব্যবহার করেন।১৯৫০ এর  দিকে বাঙালির জাতীয়তাবাদীরা এই শব্দটি পূর্ব-পাকিস্তানের সমস্ত মিটিং মিছিল সমাবেশে ব্যবহার করে।

ইতিহাসঃ

মধ্যযুগের সময়কাল 

বাংলাদেশের ইউরিয়া বটেশ্বর থেকে পাওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে বোঝা যায় বাংলাদেশের এই অঞ্চলে জনবসতি গড়ে উঠেছিল প্রায় 4000 হাজার বছর আগে । অনেকে ধারণা করে যে তিব্বতীয় বর্মী জনগোষ্ঠী এখানে বসবাস স্থাপন করেছিল । পরবর্তী সময়ে এসব ফ্রম চুলগুলো খুব ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয় স্থানীয় এবং বিদেশি শাসকদের দ্বারা পরিচালিত হয় । ষষ্ঠ শতক পর্যন্ত গুপ্ত রাজবংশ বাংলায় শাসন করেছিল । তারপরে শশাঙ্ক নামে এক রাজা স্বল্প দিনের জন্য এই অঞ্চল পরিচালনা করেছিল । তারপরে পাল রাজবংশ বাংলায় এসে বাংলার ক্ষমতা দখল করে তারা বাংলার শাসন করতে শুরু করে । তারা প্রায় 400 বছর ধরে বাংলাকে শাসন করেছিল । তারপর বাংলায় সেন বংশ রা ক্ষমতায় আসেন । তারপর বাংলার সেন বংশ দের যুদ্ধে হারিয়েছিল তা দখল করে সুলতানরা । মোগল সাম্রাজ্য আসার আগ পর্যন্ত সুলতান রা বাংলা শাসন করে থাকে । মুঘল বিজয়ের পর ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয় এবং এনাম করা হয় জাহাঙ্গীরনগর । 

ঔপনিবেশিক সময়কাল 

পঞ্চদশ শতকের শেষের দিকে বাংলায় ইউরোপ ব্যবসায়ীদের আগমন ঘটে । আস্তে আস্তে তারা তাদের প্রভাব বিস্তার করতে থাকে বাংলার বুকে । 1757 খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পলাশীর যুদ্ধে জয় লাভ করে এবং বাংলার ক্ষমতা দখল করে নেয় ।  

পাকিস্তানের সাথে বাংলার জোট

 1947 সালের দেশভাগের পর বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় । তখন বাঙ্গালীদের উপর পাকিস্তানিরা নানা অত্যাচার ও শাসন করতে থাকে । সরকারি সকল উচ্চপদস্থ চাকরিতে পূর্ব পাকিস্তানের চেয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণ কি বেশি নেওয়া হতো । 

মুক্তিযুদ্ধ

1970 সালে দেশের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় । যেখানে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণ নেয় সেই নির্বাচনে । নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বিজয় লাভ করে । কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানিরা তাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের না না ছলনা করে। 

তারই জেরে তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান 25 শে মার্চ গভীর রাত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আটক করে এবং ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় । তারা এর নাম দিয়েছিলেন অপারেশন সার্চলাইট । সেই রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীরা বাঙালির বহু নারী পুরুষকে এবং বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে । তখন বাংলাদেশের নাগরিকরা প্রায় এক কোটি লোক ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য । এই যুদ্ধে বাঙালি প্রায় ত্রিশ লক্ষ নারী পুরুষ জীবন দান করে । 

10 ই এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আমবাগানে একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়  । যেখানে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয় তাজউদ্দীন আহমেদ এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয় শেখ মুজিবুর রহমান । 17 এপ্রিল এই সরকারের শপথ গ্রহণ হয় । 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এবং আহ্বানে বাংলার সর্ব শ্রেণীর মানুষ পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে । দীর্ঘ নয় মাস এই যুদ্ধ চলে । এই যুদ্ধে বাংলাদেশকে ভারত নানাভাবে সহযোগিতা করেছিল । তখন ভারত বাংলাদেশকে যুদ্ধ করার অস্ত্র সহ প্রায় বাঙালি এক কোটি মানুষের আশ্রয় দিয়েছিল ভারত ।1971 সালের 16 ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পন করে । প্রায় 90 হাজার পাকিস্তানি  সেনাবাহিনীকে যুদ্ধবন্দী করা হয় ‌। পরবর্তীতে 1971 সালে যুদ্ধবন্দী পাকিস্তানি সেনা বাহিনী দের আবার পাকিস্তানের ফিরিয়ে দেওয়া হয় । 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকসমূহ 

পতাকাসবুজের মাঝখানে গোলাকার লাল বৃত্ত
জাতীয় প্রতীকশাপলা
সঙ্গীতআমার সোনার বাংলা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পশুরয়েল বেঙ্গল টাইগার
ফুল ও ফলসাদা শাপলা ও কাঁঠাল
পাখি ও গাছদোয়েল ও আম গাছ
খেলাকাবাডি

প্রথম গণতন্ত্র ব্যবস্থা চালু

স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশের প্রথম সংসদীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা চালু করা হয় । শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন । 1971 সালের 15 ই আগস্ট রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের জেরে তাকে সপরিবারে হত্যা করা হয় । 

সামরিক অভ্যুত্থান 

শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর দেশে তিন মাসের মধ্যে কয়েকবার গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয় । 1975 সালের 7 ই নভেম্বর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসেন । তিনি ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন এবং বিএনপি নামে নতুন এক দলের সৃষ্টি হয় । 1981 খ্রিস্টাব্দে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সফরের সময় এক অভ্যুত্থানে নিহত হন । 982 সালে জেনারেল হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ আর এক অভ্যুত্থান এর মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে । হাজার 990 সালের আরেক অভ্যুত্থানের তার পতন হয় এবং তিনি ক্ষমতা ত্যাগ করেন । পরবর্তীতে তিনি জাতীয় পার্টি’ নামে নতুন আরেকটি জাতীয় দল সৃষ্টি করেন । তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় । এর মাধ্যমে পুনরায় আবার সংসদীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা চালু হয় । 

জলবায়ু 

এই দেশের জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ । এই দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপর ভিত্তি করে 6 টি ঋতুতে ভাগ করা হয়েছে এগুলো হলো, 

  • গ্রীষ্মকাল
  • বর্ষাকাল
  • শরৎকাল
  • হেমন্তকাল
  • শীতকাল
  • বসন্তকাল

বাংলাদেশে প্রতি বছর বৃষ্টিপাত এর মাত্রা 1500 থেকে 2500 মিলিমিটার । বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা 25 ডিগ্রি সেলসিয়াস । বাংলাদেশের ভূখণ্ডের উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা বয়ে গেছে । বাংলাদেশে প্রায় প্রতি বছরই বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, জলোচ্ছ্বাস বিভিন্ন অঞ্চলে আঘাত হানে।

জনসংখ্যা 

2011 সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ছিল 14 কোটি 20 লাখ 19 হাজার । জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল 1.34 শতাংশ । বাংলাদেশ পৃথিবীর অষ্টম জনবহুল দেশ । এদেশের প্রতি বর্গমাইলে এলাকায় জনঘনত্ব ছিল 2,497 জনের বেশি  । 

2011 সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট পুরুষের সংখ্যা ছিল 7 কোটি 12 লাখ 55 হাজার । আর নারীদের সংখ্যা ছিল 7 কোটি 10 লাখ 64 হাজার । বাংলাদেশের প্রতি বর্গ কিলোমিটার এলাকায় 1055 জন লোক বসবাস করে । 

বাংলাদেশের নারী পুরুষের গড় আয়ু  71.5 বছর । 

ভাষা 

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা 99 ভাগের মাতৃভাষা বাংলা । বাংলাদেশের সংবিধানের 3 নং অনুচ্ছেদে বলা আছে বাংলাদেশের একমাত্র বাংলায় রাষ্ট্রভাষা । এদেশে বাংলা ভাষার সাথে ইংরেজি ভাষার চর্চা করা হয় । 

শিক্ষা

2005 সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ছিল প্রায় 41 শতাংশ । 2009 সালে এ দেশে সাক্ষরতার হার ছিল 52%  । 2013 সালে এই হার বৃদ্ধি পেয়ে 71% হয় । 2016 সালে তা আরও বেড়ে 72. 76 শতাংশ হয়ে দাঁড়ায় । 

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো, 

  • প্রাথমিক শিক্ষা
  • মাধ্যমিক শিক্ষা
  • উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা

স্বাস্থ্য খাত

বাংলাদেশে অপুষ্টি একটি বড় সমস্যা যা স্বাস্থ্যখাতে  প্রভাব ফেলে । বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার 26 % অপুষ্টিতে ভোগে । 46 শতাংশ শিশু কম থেকে গভীর ওজন স্বল্পতা জনিত সমস্যায় ভোগে । প্রতি দুজনের মধ্যে একজন শিশুর রক্ত স্বল্পতায় ভুগছে । তবে বাংলাদেশ সরকার এসব সমস্যা সমাধানের জন্য বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে । চিকিৎসা ব্যবস্থায় অনেক উন্নতি সাধন করা হয়েছে । 

সামরিক খাত 

2012 সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট সেনাবাহিনীর সংখ্যা হল প্রায় 300, 000 । নৌবাহিনীতে মোট সংখ্যা হল 19000 । বাংলাদেশের সামরিক শক্তি দেশ রক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকে সর্বদা । এছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ত্রাণ বিতরণ ইত্যাদি কাজে এসব সামরিক বাহিনী সাহায্য করে থাকে । 

মুদ্রা ব্যবস্থা

বাংলাদেশের দুই ধরনের মুদ্রা ব্যবস্থা চালু আছে একটি হলো ধাতব মুদ্রা অন্যটি হলো কাগজের নোট বা টাকা । তবে বর্তমান সময়ে ধাতব মুদ্রার চল প্রায় নেই বললেই চলে । বাংলাদেশে কয় ধরনের কাগজের নোট বার টাকা আছে সেগুলো হলো ,

  • 2 টাকা
  • 5 টাকা
  • 10 টাকা
  • 20 টাকা
  • 50 টাকা
  • 60 টাকা
  • 100 টাকা
  • 200 টাকা
  • 500 টাকা
  • 1000 টাকা

খনিজ সম্পদ

বাংলাদেশের মাটির নিচে প্রচুর পরিমাণে খনিজ সম্পদ রয়েছে । বাংলাদেশের যে যে খনিজ সম্পদ পাওয়া যায় সেগুলো হলো ,

  • প্রাকৃতিক গ্যাস
  • কয়লা
  • পিট
  • চুনাপাথর
  • কঠিন শিলা 
  • লোহার খনি। ( দিনাজপুর )
  • ভারী মানিক ( কক্সবাজার ) 

যাতায়াত ব্যবস্থা

নৌপথ

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এদেশের বুকের উপর দিয়ে বয়ে গেছে শত শত নদী । এর জন্য বাংলাদেশের মানুষ আগে থেকেই যাতায়াতের জন্য নদীকে ব্যবহার করে এসেছে । বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের জন্য নৌপথ খুবই গুরুত্বপূর্ণ । বাংলাদেশের মানুষ যাতায়াতের জন্য নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা হিসেবে নদীপথকে  ব্যবহার করে । এছাড়াও নৌপথের মাধ্যমে নানা পণ্য আমদানি এবং রপ্তানিকারক হয় । বাংলাদেশের প্রায় 8400 কিলোমিটার দৈর্ঘ্য জলপথ রয়েছে । বাংলাদেশের তিনটি সমুদ্র বন্দর রয়েছে । এই সমুদ্র বন্দর গুলোর নাম হল,

  • চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর
  • মংলা সমুদ্র বন্দর
  • পায়রা সমুদ্র বন্দর

সড়ক পথ

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যোগাযোগের জন্য সড়ক পথ অন্যতম। 1997 সালে দেশে পাকা রাস্তা ছিল 178869 কিলোমিটার। 2010 সালে এই দেশের মধ্যে জাতীয় সড়ক ছিল 3478 কিলোমিটার , আঞ্চলিক মহাসড়ক 4222  কিলোমিটার  , অন্যান্য সড়ক 13248 কিলোমিটার।

রেলপথ 

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ব্যবস্থা হল রেলপথ। এখানে রেলপথের ব্যবস্থা ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু হয়ে এসেছে। এখনও বাংলাদেশের রেলপথে চলাচল করা হয়। 2009 সালে হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট রেলপথ ছিল 2835 কিলোমিটার। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে 50 টিরও বেশি রেল চলাচল করে।

আকাশপথ

বাংলাদেশ অন্যান্য ও যাতায়াত ব্যবস্থার মধ্যে আকাশপথেও যাতায়াত করা হয়ে থাকে। দেশের অভ্যন্তরের কম ব্যবহার হলেও বিদেশে যাওয়ার জন্য আকাশপথ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় । বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা হল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স 

উৎসব

বাংলাদেশ নানা সময় নানা উৎসব পালন করা হয় থাকে ।‌ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উৎসবগুলোর নাম হল,

  • ঈদুল ফিতর
  • ঈদুল আযহা
  • শবে বরাত
  • শবে কদর

হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম উৎসবগুলোর নাম হল, 

  • দুর্গাপূজা
  • কালীপূজা
  • লক্ষ্মী পূজা 
  • দোলযাত্রা
  • হোলি

এছাড়া বাংলাদেশের মানুষ বাংলা নববর্ষ ধুমধাম করে পালন করে। বাংলাদেশের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ একসাথে সকল উৎসব পালন করে। সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে কোন ভেদাভেদ বাংলাদেশের লক্ষ্য করা যায় না।

প্রশাসন ভিত্তিক ভৌগলিক বিভাজন 

বাংলাদেশে আটটি প্রশাসনিক বিভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো,

  • ঢাকা
  • চট্টগ্রাম
  • রাজশাহী
  • খুলনা
  • বরিশাল
  • সিলেট
  • রংপুর
  • ময়মনসিংহ 

প্রতিটি বিভাগে রয়েছে একাধিক জেলা। বাংলাদেশে মোট 64 টি জেলা আছে। জেলার চেয়ে ক্ষুদ্রতর প্রশাসনিক অঞ্চলকে উপজেলা বলা হয়। সারাদেশে 492 টি  উপজেলা আছে। প্রত্যেকটি উপজেলায় আবার একাধিক ইউনিয়ন আছে । এ দেশে মোট 4554 ইউনিয়ন আছে। একটি অন্যান্যের মধ্যে আবার কয়েকটি গ্রামে ভাগ করা হয়। বাংলাদেশে মোট গ্রামের সংখ্যা হল 87,319 টি। 1997 খ্রিস্টাব্দের আইন অনুযায়ী ইউনিয়ন পর্যায়ে মহিলাদের জন্য 25 শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা আছে। 

এছাড়া শহরাঞ্চলে 12 সিটি কর্পোরেশন আছে এগুলো নাম হল,

  • ঢাকা উত্তর
  • ঢাকা দক্ষিণ
  • চট্টগ্রাম
  • খুলনা
  • রাজশাহী
  • রংপুর
  • সিলেট
  • বরিশাল
  • নারায়ণগঞ্জ
  • গাজীপুর
  • কুমিল্লা
  • ময়মনসিংহ

সর্বমোট 330 পৌরসভা আছে। এগুলো সব গুলোর জন্য জনগণের ভোটে মেয়র এবং জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়। বাংলাদেশের বৃহত্তম শহর ঢাকা যেটা বাংলাদেশের রাজধানী। 

বর্তমানে বাংলাদেশে 8 বিভাগের অন্তর্ভুক্ত 64 জেলার অন্তর্ভুক্ত 492 টি উপজেলা আছে।

অন্যান্য পোস্টসমূহঃ

error: Content is protected !!