Menu Close

মোবাইল ফোন (Mobile Phone):

মোবাইল ফোন বলতে বোঝায় তারবিহীন টেলিফোন বিশেষ। মোবাইল শব্দের অর্থ ভ্রাম্যমাণ। এই ফোন যেকোনো জায়গায় ব্যবহার করে নিয়ে যাওয়া যেত তার জন্য এই ফোনের নাম রাখা হয় মোবাইল ফোন। বেতার তরঙ্গ কে কাজে লাগিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যেকোনো জায়গায় বিনা তারের সাহায্যে কথা বলা যায়। বর্তমান মোবাইল এর মাধ্যমে আমরা কথা বলা থেকে শুরু করে ইন্টারনেট পরিষেবা গ্রহন করতে পারি। এর মাধ্যমে এসএমএস করা যায় ,ইমেইল করা যায়,ছবি তোলা, গান শোনা ,ভিডিও দেখা, রেকর্ড করা, ব্লুটুথ, সফটওয়্যার ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারি । মোবাইল ফোন এর মাধ্যমে মূলত কম্পিউটার এর কিছু সীমিত সেবা গ্রহণ করা যায়।

ইতিহাসঃ

১৯৭৩ সালে মোবাইল ফোন সর্বপ্রথম তৈরি করা হয়েছিল। আর এই ফোন আবিষ্কার করেছিলেন মার্টিন কুপার। এই ফোনটির ওজন ছিল প্রায় দুই কেজি। আমেরিকা নিউইয়র্ক শহরে এটা তৈরি করা হয়েছিল। মোবাইল আবিষ্কার করার জন্য মার্টিন কুপার কে ও জন্স ফ্রান্সিস মিচেল কে মোবাইল ফোনের জনক বলা হয় থাকে।

মোবাইল ফোন Mobile Phone
১৯৭৩ সালের নিজের আবিস্কৃত মোবাইল ফোন হাতে ড. মার্টিন কুপার। ছবি ২০০৭ সালে তোলা

১৯৮৩ সালে মোবাইল ফোনের সর্বপ্রথম বাণিজ্যক সংস্কার বাজারে আসে। তখন এই মোবাইলটির নাম দেওয়া হয়েছিল মটোরোলা ডায়না টিএসসি ৮000 এক্স । ১৯৯০- ২০১১ সালে মোবাইল ফোন এর মোট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল – ১২.৪ মিলিয়ন থেকে ৬ বিলিয়নেরও বেশি। তখনকার সময়ে পৃথিবীর প্রায় ৮৭ % লোক মোবাইল ফোন ব্যবহার করত।

ছোট্ট একটি টেলিকম কোম্পানির মোটরোলয় মার্কিন কুপার কাজ করতো। তিনি এখানে চাকরি করার সময় তার ইচ্ছে করতেন সবার হাতেই একটা করে সেলফোন থাকবে। এটার মাধ্যমে তারা তাদের প্রিয়জনদের সাথে যোগাযোগ করবে।

কিন্তু তখনকার সময়ে এটি ছিল হাস্যকার এর মত। শুনলে মনে হবে বিজ্ঞানের কোন কল্পকাহিনী। কারণ তখনকার সময়ে প্রত্যেকের ঘরে টেবিলের উপর বা অন্য কোন জায়গায় টেলিফোন রাখা থাকে এবং একটি তারের মাধ্যমে এটি সংযুক্ত থাকে । সেটা দিয়ে সকলে কথা বলতো। তখন মার্টিন কুপার ভাবেন আমরা এমন একটি ফোন আবিষ্কার করব যাতে কোনো তার থাকবে না এবং এটার মাধ্যমে আমরা সবাই কথা বলতে পারব। এটাই আমাদের আবিষ্কার করতে হবে।

১৯৭৩ সালের এপ্রিল মাসে মার্টিন কুপার এবং তার দল সর্বপ্রথম হাতে ধরা ফোনের কপি সকলের কাছে উপস্থাপন করে। তিনি যে ফোন আবিষ্কার করেন সেটার আকৃতি ছিল ,

10 ইঞ্চি লম্বা

2 ইঞ্চি চওড়া

4 ইঞ্চি উঁচু

এটার ওজন ছিল 1 কেজি

এই ফোনটি মাত্র 20 মিনিট কথা বলার পরে চার্জ শেষ হয়ে যেত তারপর নতুন করে আবার ফুল চার্জ করে আবার কথা বলা যেত 20 মিনিট । সেই ফোন দেখে অনেকে হাসাহাসি করেছিল ।কিন্তু তখনকার সময়ে এ ফোনের বিকল্প অন্য কোন ফোন ছিল না । তিনি সর্বপ্রথম ওই মোবাইল ফোনে কথা বলেছিলেন । তারপর ধীরে ধীরে অনেক মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে বর্তমান সময়ে আমরা এই আধুনিক মোবাইল ফোন পেয়েছি । সময়ের বিবর্তনে মোবাইল ফোন আস্তে আস্তে বিকাশ হতে থাকে এবং পরবর্তীতে এ স্মার্টফোন হিসেবে রূপ নেয় ।

সেবাঃ

যেসব মোবাইল কম্পিউটারের মত আংশিক সেবা প্রদান করে তাদেরকে এ স্মার্টফোন বলা হয় । প্রায় সকল ফোনকেই স্মার্টফোন হিসেবে ব্যবহার করা হয় । এর মাধ্যমে আমরা যে যে সেবা পেয়ে থাকি সেগুলো হলো ,

  • এসএমএস
  • ইমেইল
  • ইন্টারনেট ব্যবহার
  • ক্যালকুলেটর
  • গেমস
  • সময় দেখা
  • রেকর্ডিং
  • ভিডিও রেকর্ডিং
  • ট্রেনের বা বিমানের টিকিট বুকিং করা
  • পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস বিল প্রদান করা
  • টাকা আদান প্রদান করা যায় ।

এসএমএসঃ এসএমএস হল এমন একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে আমরা যে কাউকে খুদে বার্তা পাঠাতে পারি ।

ইমেইলঃ e-mail এর পূর্ণরূপ হল ইলেকট্রনিক মেইল । আমরা ইমেইলের মাধ্যমে আমাদের যে কোন ডকুমেন্ট যে কাউকে পাঠাতে বা গ্রহণ করতে পারি ।

ইন্টারনেটঃ কম্পিউটারের সকল ফিচার এর মধ্যে ইন্টারনেট ফিচারটি সবচেয়ে জনপ্রিয় । আমরা কম্পিউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকি । আর ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা সারা পৃথিবীর সাথে যুক্ত হতে পারি । ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রিয়জনদের যারা দূরে থাকে তাদের সাথে ভিডিও কলে কথা বলতে পারি । এছাড়া ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা অনেক সুবিধা গ্রহণ করে থাকি । মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট এর ফিচার দেওয়ার ফলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেকটাই সহজতর হয়েছে ।ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা অনলাইন ক্লাস গ্রহণ করতে পারি যার ফলে আমাদের শিক্ষা অর্জনের দিকেও মোবাইল অনেক সাহায্য করে আমাদের ।

ক্যালকুলেটরঃ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল ক্যালকুলেটর যা আমরা মোবাইলেও পেয়ে থাকি । আমরা ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে নানা রকম গাণিতিক সমস্যা সমাধান করে থাকি । মোবাইল ফোনের মধ্যে ক্যালকুলেটর থাকার জন্য আমরা আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে হিসাব নিকাশের জন্য একে ব্যবহার করতে পারি । আমাদের সকলেরই বাস্তব জীবনে হিসাব-নিকাশ করতে গেলে কমবেশি প্রায় সকলেরই ভুল হয়ে থাকে । কিন্তু এই ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের হিসাব নিকাশ আমরা নির্ভুল ভাবে ব্যবহার করতে পারি ‌।

গেমসঃ মোবাইলে গেমস খেলা যায় বলে অনেক শিশু তাদের বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে মোবাইল ফোনের গেমস কে বেছে নেয় । এখানে আমরা যে কোন গেম সফটওয়্যার ইন্সটল করে তা ব্যবহার করতে পারি । বাস্তব জীবনের মতো ক্রিকেট, ফুটবল সহ আরো আকর্ষণীয় আকর্ষণীয় গেমস আমরা ব্যবহার করতে পারি ।

রেকর্ডঃ ফোনের মাধ্যমে আমরা নানা রকম রেকর্ড করতে পারি । ভিডিও এবং অডিও দুটো আমরা আমাদের মোবাইল ফোন থেকে করতে পারি । এটি আমাদের কিছু সুন্দর সময় স্মরণীয় করে রাখতে ব্যবহার করা হয় ।

টাকা আদান প্রদান এবং পৈ-বিলঃ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমরা অনেক দূর থেকে টাকা আদান প্রদান করতে পারি । এবং এর মাধ্যমে আমরা আমাদের বাসার বিদ্যুৎ এর বিল এবং গ্যাসের বিল প্রদান করতে পারি । এছাড়াও মেল ট্রেন বাস ইত্যাদি বুকিং করতে আমরা এ মোবাইল ব্যবহার করে থাকি ।

১৯৯৩ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম মোবাইল ফোন চালু হয় । বাংলাদেশ বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রায় সকলেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে । এটির মাধ্যমে আমরা দৈনিন্দন জীবনে অনেক সেবা পেয়ে থাকি যা আমাদের জীবনকে আরো আনন্দময় করে দিয়েছে ।

অসুবিধাঃ

মোবাইল অনেক সুবিধা দিলেও এর কিছু অসুবিধা হলো মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার এবং গেমস খেলার প্রতি অনেকেই আকৃষ্ট হয়ে পরে । সে এই সকল বিষয়ের উপর আসক্ত হয়ে যায় । যেটা খুবই খারাপ আমাদের সকলেরই নির্দিষ্ট সময় মেনে মোবাইল ব্যবহার করা উচিত । মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমাদের চোখের অনেক ক্ষতি হয় ।

অন্যান্য পোস্টসমূহঃ

error: Content is protected !!