Menu Close

উপগ্রহ সম্পর্কে আমাদের সবার কম বেশী জানা আছে। সহজ কথায় বলতে গেলে উপগ্রহ হলো যা অন্য কোন কিছুকে কেন্দ্র করে ঘোরে। সর্বশ্রেষ্ঠ কথা সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায় বলেছেন-

“এতকাল জীবনটা কাটলো উপগ্রহের মত। যাকে কেন্দ্র করে ঘুরি, না পেলাম তার কাছে আসার অধিকার, না পেলাম দূরে যাবার অনুমতি। অধীন নই, নিজেকে স্বাধীন বলারও জোর নাই।” – শ্রীকান্ত, চতুর্থ পর্ব।

তাহলে পাঠক বুঝতেই পারছেন, কাছেও না দূরেও না, একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে থেকে কেন্দ্র ঘুরলেই তবে উপগ্রহ বলা যায়। আমাদের পৃথিবী সুর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে, তাই পৃথিবীকে সুর্যের একটি উপগ্রহ বলা যায়। আবার সৌরজগৎ বিবেচনায় পৃথিবী হল একটি গ্রহ। আবার যেহেতু চন্দ্র পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘোরে তাই চন্দ্র হল পৃথিবীর একটি উপগ্রহ। আবার মানুষের তৈরি কিছু যন্ত্রকে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে এমনভাবে প্রেরণ করা হয় যা চন্দ্রের মত পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে অবিরত। এগুলোকে আমরা পৃথিবীর কৃত্রিম উপগ্রহ বলি। সুতরাং বোঝায় যাচ্ছে যে উপগ্রহ দুই ধরনের হতে পারে –

  • প্রাকৃতিক উপগ্রহ

  • কৃত্রিম উপগ্রহ

প্রকৃতিক উপগ্রহগুলো প্রকৃতিতে আপনা আপনি সৃষ্টি হয়েছে । আর কৃত্রিম উপগ্রহ মানুষ সৃষ্টি করেছে। এই কৃত্রিম উপগ্রহকে স্যাটেলাইট বা Artificial Satellite বলা হয় । আমরা সবাই হয়তো এর সম্পর্কে একটু একটু জানি । আর অনেকেই হয়তো বা এটা কীভাবে কাজ করে সে বিষয়ে বেশ কৌতুহলী । আজকে আমরা স্যাটেলাইট সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব ।

 

স্যাটেলাইট (Satellite):


স্যাটেলাইট হলো এমন একটি কৃত্রিম উপগ্রহ যেটার সাহায্যে তথ্য সংরক্ষণ বা যোগাযোগ স্থাপনের জন্য পৃথিবী বা অন্য কোন গ্রহ ,উপগ্রহ কক্ষপথে স্থাপন করা হয়। আর মানুষ তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে হাজার হাজার স্যাটেলাইট তৈরি করেছে এবং তা সফল ভাবে কাজ করছে।

উপগ্রহ Satellite
Artificial Satellite in Space

 

স্যাটেলাইট এর প্রয়োজনীয়তাঃ


ধরুন, আপনার বোন আমেরিকাতে থাকে। তিনি আপনার ছবি দেখতে চাচ্ছেন। আপনি সাধারণভাবে ছবিটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠাতে চান তাহলে এনটিনিয়ার এর সাহায্যে বা অন্য কোনো মাধ্যমে পাঠানোর চেষ্টা করবেন। কিন্তু আপনি কোন মতেই এভাবে সফল হতে পারবেন না। কারণ আমাদের পৃথিবীটা উপবৃত্তকার তার ফলে যেটা কিছু দূর পর্যন্ত গিয়ে আর যেতে সক্ষম হবে না ফলে ডাটা লস ঘটবে। আর এরই সমাধান হিসেবে বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইট এর আবিষ্কার করেছে । স্যাটেলাইট আকাশে অবস্থান করে। তার জন্য আপনি যদি আপনার ছবি আপনার বোনের কাছে পাঠাতে চান তাহলে আপনার ফোন থেকে ডেটা স্যাটেলাইট এর কাছে পৌঁছাবে এবং স্যাটেলাইট সেটাকে আপনার বোনের মোবাইলে ট্রানস্ফার করে দিবে।

 

স্যাটেলাইট এর গুরুত্বঃ


স্যাটেলাইট এর সাহায্যে বিভিন্ন কাজ করা যায়। আর এগুলোর মধ্যে নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের কথা উল্লেখ করা হলো

  • পৃথিবী সহ বিভিন্ন গ্রহের নিখুঁত ছবি সংগ্রহ করতে পারে

  • আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়

  • মহাবিশ্ব সম্পর্কে সঠিকভাবে ধারণা দেয়

  • আমাদের গ্রহ ফ্লাক্সি ছায়াপথ এর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন অজানা ও রোমাঞ্চকর তথ্য দেয় ।

  • টিভি সিগন্যাল

  • বিশ্বজুড়ে ফোনকল স্থাপন

 

স্যাটেলাইট এর প্রকারভেঃ


কাজের ধরন অনুসারে স্যাটেলাইট তিন ধরনের,

  •  লো আর্থ অরবিট
  • মিডিয়াম আর্থ অরবিট

  • জিওস্টেশনারি আর্থ অরবিট।

লো আর্থ অরবিটঃ LEO  স্যাটেলাইটগুলো মূলত পৃথিবীর কাছাকাছি থাকে ।‌ পৃথিবী থেকে এরা ১৬০-২০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে । এই সকল স্যাটেলাইট এর সাহায্যে মূলত পৃথিবী কে পর্যবেক্ষণ করা হয় ‌। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন এই জায়গায় অবস্থিত । এই স্যাটেলাইট এর সাহায্যে টেলিযোগাযোগ এবং ইন্টারনেট জন্য ব্যবহার করা হয়।

মিডিয়াম আর্থ অরবিটঃ MEO স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবী থেকে ২০০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে। এটি মূলত জিপিএস এর জন্য ব্যবহার করা হয় ‌। এই স্যাটেলাইটগুলো সামরিক বাহিনী ও অনেক কাজে লাগায় ।

জিওস্টেশনারি আর্থ অরবিটঃ এই স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৫০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে থাকে । এই স্যাটেলাইট গুলো সাধারনত রেডিও এবং টিভি এর ট্রান্সমিশনের কাজে ব্যবহার করা হয় ।

 

স্যাটেলাইটের জ্বালানিঃ


স্যাটেলাইট যখন মহাকাশে পাঠানো হয় তখন রকেটে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি দেওয়া হয় । কারণ স্পেসে কোন জ্বালানি স্টেশন নেই । তারপরে এটি সৌর শক্তির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে । সর্বোপরি মূলত সৌর শক্তির মাধ্যমে এটি কাজ করে ।

 

প্রথম স্যাটেলাইট আবিষ্কার এবং স্থাপনঃ


১৯৯৭ সালের ৪ ই অক্টোবর সর্বপ্রথম স্যাটেলাইট স্পুটনিক-1 । এটি তৈরি এবং স্থাপন করেন সোভিয়েত ইউনিয়ন ।

 

যে সকল দেশর  স্যাটেলাইট আছেঃ


দেশের নাম

সাল

স্যাটেলাইট এর নাম

সোভিয়েত ইউনিয়ন

১৯৫৭

স্পুটনিক ১

যুক্তরাষ্ট্র

১৯৫৮

এক্স প্লেয়ার ১

ফ্রান্স

১৯৬৬

এস্ট সিক্স

জাপান

১৯৭০

ও সুমি

চীন

১৯৭০

ভং ফ্যাং হং

যুক্তরাজ্য

১৯৭১

প্রোসপেরো এক্স ৩

ভারত

১৯৮০

রোহিণী

ইসরাইল

১৯৮৮

ওফেক ১

রাশিয়া

১৯৯২

কসমস ২১৭৫

ইউক্রেন

১৯৯২

স্ট্রেলা

বাংলাদেশ

২০১৮

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১

 

অন্যান্য পোস্টসমূহঃ

error: Content is protected !!